রিজিক বৃদ্ধির দোয়া সম্পর্কে জেনে নিন

রিজিক বৃদ্ধির দোয়া

আমরা সবাই চাই সবার রিজিক বৃদ্ধি হোক এবং সেই প্রেক্ষিতে সকল মুমিন জানতে চায় রিজিক বৃদ্ধির দোয়া সম্পর্কে। মহান আল্লাহ তা’আলা একমাত্র দোয়া ও আমলের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তির রিজিক বৃদ্ধি অথবা রিজিকে বরকত দিয়ে থাকে। আর তারই প্রেক্ষিতে আজকের আমরা এমন কিছু দোয়া সম্পর্কে জানবো, যেগুলো যদি কোনো মুমিন ব্যক্তি নিয়মিত আমল করে, তাহলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ ত’আলা তাঁর রিজিক বৃদ্ধি করে দিবে।

আমরা অনেকে রিজিক বলতে ভুল বুঝে থাকি। তবে সামগ্রিকভাবে রিজিক একটি ব্যাপক বিষয়। রিজিকের মধ্যে অনেকগুলো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি হলো- সুস্বাস্থ্য, সঠিক জীবন, সন্তান-সন্তুতি, সুষ্ঠ জীবনধারণ করা, জীবনে স্বচ্ছলতা, জীবনে কল্যাণ, উন্নতি, সঠিক জ্ঞান, প্রজ্ঞা ইত্যাদি। আর এগুলোকে নিয়েই একজনের রিজিক হয়। তবে বিশেষ ভাবে রিজিক বলতে আমরা জীবনের উন্নতিকে বুঝে থাকি অর্থাৎ আমাদের জীবনের আয়-ব্যয় ইত্যাদি। তবে উল্লেখিত বিষয়গুলোও একজনের জন্য রিজিক। তাই আমাদের সার্বিকভাবে দোয়ার মাধ্যমে উল্লেখিত বিষয়গুলো অর্থাৎ ভালো ও সুষ্ঠ রিজিক আল্লাহর নিকট চাইতে হবে। ( হাসবুনাল্লাহু এর বিষ্মকর ফজিলতসাহাবীদের নাম সম্পর্কে জানুন )

মহান আল্লাহ তা’আলা একজন বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেয় দুই ভাবে। সেগুলো হলো- রিজিক বৃদ্ধির নির্দিষ্ট কিছু আমলের মাধ্যমে এবং অন্যটি হলো দোয়ার মাধ্যমে। যদি কোনো ব্যক্তি তাঁর রিজিক বৃদ্ধির  জন্য আল্লাহা তা’আলার নিকট বিশেষ দোয়াগুলো দ্ধারা রিজিক বাড়ানোর জন্য দোয়া করে থাকে, তাহলে ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ তা’আলা সে ব্যক্তি রিজিক বৃদ্ধি করে দিবে। তাহলে এখন প্রশ্ন আসতে পারে, রিজিক বৃদ্ধির সেই দোয়াগুলো কি কি? হ্যাঁ, তাহলে চলুন জানা যাক রিজিক বৃদ্ধির সেই বিশেষ দোয়াগুলো সম্পর্কে।

রিজিক বৃদ্ধির দোয়াগুলো

রিজিক বৃদ্ধির দোয়াগুলো

যেহেতু মহান আল্লাহ তা’আলাই হলেন রিজিকের সমস্ত উৎস, সেহেতু তাঁর নিকট হতেই আমাদের রিজিক চাইতে হবে। তাঁর গুণবাচক নামগুলোর মধ্যে একটি নাম হলো ইয়া রাজ্জাক অর্থাৎ একমাত্র তিনিই রিজিকদাতা। সুতরাং রিজিক বৃদ্ধির জন্য এটাই হলো আমাদের প্রথম আকিদা। তার নিকট বেশি বেশি চাইতে হবে। এবং প্রতি নামাজের পর বেশি বেশি এই দুরুদ টি পড়তে হবে এবং তারঁ নিকট চাইতে হবে। আলোচনা দীর্ঘায়িত না করে, চলুন, জানা যাক রিজিক বৃদ্ধির দোয়াগুলো সম্পর্কে-

হযরত ঈসা আ. আল্লাহ তা’আলার নিকট রিজিক বৃদ্ধির জন্য একটি দোয়া বার বার করতেন এবং এই দোয়াটি আল্লাহ তা’আলার এতো পরিমাণে পছন্দ হয়েছে যে, যে কারণে পবিত্র কোরআনে সে দুয়াটি আল্লাহ তা’আলা তুলে ধরেছেন। সে দোয়াটি হলো-

اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَآئِدَةً مِّنَ السَّمَاء تَكُونُ لَنَا عِيداً لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
উচ্চারণ : ” আল্লাহুম্মা রাব্বানা আনযিল আলাইনা মায়িদাতাম মিনাস সামায়ি তাকুনু লানা ঈদাল্লি আওওয়ালিনা ওয়া আখিরিনা ওয়া আয়াতাম মিনকা ওয়ারযুকনা ওয়া আনতা খায়রুর রাযিকিন “ (সুরা মায়েদা: আয়াত ১১৪)
অর্থ : ”হে আল্লাহ, আমাদের পালনকর্তা! আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্য আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রিজিক দিন। আপনিই শ্রেষ্ট রিজিকদাতা ”

এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি ছোট ছোট দোয়া রয়েছে, যেগুলো একজন মুমিন সর্বক্ষণ পাঠ করতে পারে। যার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রিজিক বৃদ্ধি করে দিবে। আর সে দোয়াগুলো হলো-

(اَسْتَغْفِرُ اللهِ) `আসতাগফিরুল্লাহ’ বেশি বেশি পড়া।
رَبِّغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ- রাব্বিগফির, ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।
ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺍﻟْﻌَﻈﻴﻢَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻲُّ ﺍﻟﻘَﻴّﻮُﻡُ ﻭَﺃَﺗُﻮﺏُ ﺇِﻟَﻴﻪِ –

নিম্নে রিজিক বৃদ্ধির আরো কিছু দোয়া দেওয়া হলো-

اللهم اني اعوذ بك من الهم والحزن واعوذ بك من
العجزي والكسل واعوذ بك من الجبن والبخل واعوذ بك من غلبة الدين وقهر الرجال. رواه السيوطي في الجامع الصغير الرقم 2864 صحيح
اللهم سخر لي رزقي، واعصمني من الحرص والتعب فى طلبه، ومن شغل الهم، ومن الذل للخلق، اللهم يسر لي رزقاً حلالاً، وعجل لي به يا نعم المجيب.
اللهم يا باسط اليدين بالعطايا، سبحان من قسم الأرزاق ولم ينس أحداً، اجعل يدي عُليا بالإعطاء ولا تجعل يدي سفلى بالاستعطاء، إنك على كل شيء قدير.
اللهم ارزقني رزقاً لا تجعل لأحدٍ فيه منّة علي، ولا في الآخرة عليه تبعة، برحمتك يا أرحم الراحمين.
اللهم إن كان رزقي في السماء فأنزله، وإن كان في بطن الأرض فأخرجه، وإن كان بعيداً فقربه، وإن كان عسيراً فيسره، وإن كان قليلاً فأكثره وبارك فيه برحمتك يا أرحم الراحمين.
اللهم أكثر مالي وولدي، وبارك لي فيما أعطيتني، اللهم إني أسألك يا الله بأنك الواحد الأحد الصمد الذي لم يلد ولم يولد و لم يكن له كفواً أحد أن تغفر لي ذنوبي إنك أنت الغفور الرحيم.
اللهمّ إنّا نسألك عملاً باراً، ورزقاً داراً، وعيشاً قاراً
اللهمّ افتح لنا من خزائن رحمتك رحمة لا تعذبنا بعدها أبداً فى الدنيا والآخرة، ومن فضلك الواسع رزقاً حلالاً طيباً لا تفقرنا بعده إلى أحد سواك أبداً، وتزيدنا لك بهما شكراً وإليك فاقة وفقراً، وبك عمن سواك غنى وتعففاً
اللهم وسع على رزقى اللهم عطف على خلفك كما صنت وجهى عن السجود لغيرك فصنه عن ذل السوال لغيرك برحمتك يا ارحم الراحمين
اللهم إكفني بحلالك عن حرامك و اغنني بفضلك عمن سواك
اللهم إني أعوذ بك من الهم و الحزن و الكسل و البخل و ضلع الدين و غلبة الرجال .

উপরোক্ত দোয়াগুলোর মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ যে কেউ তাঁর রিজিক বৃদ্ধি করতে পারে। এই দোয়াগুলো হলো রিজিক বৃদ্ধির জন্য প্রমাণিত দোয়া।

রিজিক বৃদ্ধির দোয়া নিয়ে শেষ কথা

রিজিক বৃদ্ধির দোয়া নিয়ে শেষ কথা

আজকের আর্টিকেলটির মূল বিষয়বস্তু ছিল রিজিক ‍বৃদ্ধি নিয়ে। যদি কোনো ব্যক্তি তাঁর রিজিক বৃদ্ধি করতে চায়, তাহলে সে উপরোক্ত দোয়াগুলো পাঠ করতে পারে । এতে করে আশা করি তাঁর রিজিক বৃদ্ধি পাবে। মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে উপরোক্ত দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়ার তৌফিক দান করুক এবং যাতে আমরা তাঁর দেখানো পথ থেকে না সরে যাই, সে তৌফিকও দান করুক। আমাদের মধ্যে যারা যারা নিজেদের রিজিক বৃদ্ধি করতে চাই, তাদের জন্যই মূলত আজকের আর্টিকেলটি। এখানে রিজিক বৃদ্ধি করার দোয়াগুলো ক্রমান্বয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করি একজন মুমিন উপরোক্ত দোয়াগুলো দ্ধারা তাঁর রিজিক বৃদ্ধি করতে পারবে। পাশাপাশি আমাদেরকে অলসতা দূর করতে হবে।

রিজিক বৃদ্ধির দোয়া সম্পর্কে আরো জানতে

About রবীন্দ্র

Check Also

Islamic bangla dua

Islamic bangla dua – ইসলামিক ৫টি ছোট ছোট কার্যকারী দোয়া

মহাপবিত্র ধর্ম ইসলামে আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের জন্য বেশ কিছু ইসলামিক ছোট ছোট আয়াতের দোয়া ও তাজবিহ রেখেছেন, যা দ্ধারা বান্দারা তাঁর ইহকালে যেমন ব্যাপক ভাবে উপকৃত হতে পারবে ঠিক একইভাবে আখিরাতেও সে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে সক্ষম হবে। আজকের Islamic bangle dua অথবা ইসলামিক ৫টি ছোট ছোট দোয়া নামক আর্টিকেলের মাধ্যমে এমন ৫টি ছোট আয়াতের দোয়ার সম্পর্কে জানবো, যা দৈনন্দিন জীবনে আমাদের চলার পথে প্রতি মূহর্তে মূহর্তে কাজে লাগবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.