নবীর স্ত্রীদের নাম | নবীজির স্ত্রী কেন ১১ জন ?

নবীর স্ত্রীদের নাম

প্রিয় নবীর স্ত্রীদের নাম সম্পর্কে অবগত থাকা প্রত্যেকটা মুসলিমের উচিত। আল্লাহ তা’আলা নবীজির স্ত্রীদের বিশেষ সম্মান এবং মর্যাদা দান করেছেন। মা খাদিজার মৃত্যুর পর রাসূল ( সা: ) পরে ১০ জনকে ( মতান্তরে ১২ জন, আবার অনেকে এটাকে ১১ এবং মতান্তরে ১৩ উল্লেখ করে ) নারীকে বিয়ে করেছেন। এখানে অনেকে বাকি ২ জনকে নবীজির স্ত্রী মনে আবার কারো মতে বাকি এই দুইজন ছিলেন দাসী। ২ জন স্ত্রী ছিলেন না। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা: সর্বপ্রথম ২৫ বছর বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মা খাদিজাতুল ‍কোবরা ছিলেন তাঁর প্রথম স্ত্রী। তিনি যে শুধু রাসূল সা: স্ত্রী ছিলেন তাই নয়, রাসূল সা: সাথীও ছিলেন তিনি। রাসূল সা: নব্যুয়াত পাওয়ার পর দ্ধীন প্রচারে তার সমস্ত অর্থ তিনি ব্যয় করেন। অর্থের ত্যাগ, ধন-কূপের ত্যাগ, সব কিছুর ত্যাগে মা খাদিজাতুল কোবরা ছিলেন এক অনন্য উজ্জ্বল মহিমার উদাহরণ। ( মহিলা সাহাবীদের নামগুলো জানুন এবং পুরুষ সাহাবীদের নাম জানুন )

মূলত রাসূল সা: এর জীবনটা ছিল খুবই দুঃখ ও কষ্টের। তার সম্পূর্ণ ইহ জীবন কাল দুইটি ভাগে ভিভক্ত। একটি হলো মক্কী জীবন এবং অন্যটি হলো মাদানী জীবন। রাসূল সা: এর জীবন দশায় মক্কী জীবন অবস্থায় তিনি ২টি বিয়ে করেন আর অন্যগুলো মাদানী জীবনে বিয়ে করেন। মহান আল্লাহ তা’আলা রাসূল সা: এর সকল কাজের মধ্যে আমাদের জন্য শিক্ষা রেখে দেন। নবীর স্ত্রীদের কাউকে তিনি তালাক দেন নি। যা আমাদের জন্য বর্তমানে সময়ে উত্তম শিক্ষা।

রাসূল সা: এর সাথে যারা বিবাহে আবদ্ধ হোন, তাদের কে উম্মা হাতুল মু মিনীন বলে অভিহিত করেন। উম্মা হাতুল মু মিনীন একটি আরবি শব্দ। এর বাংলা অর্থ হলো উম্মা মুসলিমদের মাতা। নবী-রাসূলের সর্দার হযরত মুহাম্মদ সা: এর স্ত্রীদের আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে তাদের সম্মানের বাণী দিয়েছেন। সূরা আহযাবের ৬ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ ত’আলা বলেন,

”নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তার স্ত্রীগণ তাদের মাতা”

আর এই সম্মান এবং তাদেরকে মহিমান্বিত করা অনেক কারণ রয়েছে। আল্লাহ তা’আলা তার বান্দাদের আদেশ দিয়েছেন যেন আমরা নবী সা: এর স্ত্রীদের মাতা বা মা বলে সম্বোধন করি। এছাড়াও মুহাম্মদ সা: এর স্ত্রীরা কোনো সাধারণ নারী ছিলেন না। এরা ছিল দুনিয়াবী চলাপেরা করা সাধারণ নারী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনের সূরা আহযাবের ৩২ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,

হে নবী পত্মীগণ, তোমরা অন্য নারীদের মতো নয়”

রাসূল মুহাম্মদ সা: এর স্ত্রীদের নাম অর্থসহ

রাসূল মুহাম্মদ সা এর স্ত্রীদের নাম

আলোচনা শুরু আগে একটা জিনিস পরিষ্কার করা ভালো যে, যদি আপনারা রাসূল স এর স্ত্রীদের নামের দিকে লক্ষ্য করেন, তাহলে দেখতে পাবেন তাদের নামের শেষে পিতার নাম যোগ করা। এখানে রাসূল সা: এর নাম অ্যাড করা নাই। কারণ হলো- নারীদের নামের শেষে পিতার নাম অ্যাড করাই হচ্ছে পবিত্র কোরআনের প্রকৃত শিক্ষা। আপনারা যদি আধুনিক মুসলিম সমাজের দিকে লক্ষ্য করেন, তাহলে দেখতে পাবেন যে, এখনকার প্রত্যেকটি নারীই তার নামের শেষে স্বামীর নাম যোগ করে। যা মোটেও একজন মুসলিম নারী হিসেবে কাম্য নয়। একই ভাবে তার স্বামীও এটাকে সাপোর্ট দেওয়া কাম্য নয়। আর পবিত্র কোরআনের শিক্ষা মোতাবেক নবীর স্ত্রীদের নামের শেষে তাদের পিতাদের নাম অ্যাড করা হয়েছে। বিলম্ব না করে চলুন জানা যাক নবীর স্ত্রীদের নাম। নবীর স্ত্রীদের নামগুলো হলো-

  • খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ
  • সাওদা বিনতে জামআ
  • আয়েশা বিনতে আবু বকর
  • হাফসা বিনতে উমর
  • জয়নব বিনতে খুযায়মা
  • উম্মে সালমা হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়া
  • রায়হানা বিনতে জায়েদ
  • জয়নব বিনতে জাহশ
  • জুওয়াইরিয়া বিনতে আল হারিস
  • রামহাল ( উম্মে হাবীবা) বিনতে আবু সুফিয়ান
  • সাফিয়া বিনতে হুইয়াই
  • মাইমুনা বিনতে আল হারিস
  • মারিয়া আল কিবতিয়া

এখানে নবীর ১৩ জন স্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও অনেকে এখানে সংখ্যাটাকে ১০-১১ অথবা ১৩ বলে উল্লেখ করে। তবে আবার অনেকের মতে এদের মধ্যে দুইজন ছিলেন দাসী। তবে যাইহোক, এখানে ১৩ জন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন।

খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ

Khadija Binty Khuyailid যার বাংলা অর্থ বোঝায় অসম্পূর্ণ এমন কিছুকে। নবীর স্ত্রীদের মধ্যে মা খাদিজা রা: শুধু তাহিরা নামে উপাধি লাভ করে। যার অর্থ হলো পবিত্র এমন কিছু। তিনি কয়েকটি নামে পরিচিত ছিলেন। এর মধ্যে একটি হলো মা খাদিজাতুল কোবরা। তিনি নবীর প্রথম স্ত্রী ছিলেন। নবী সা: এর সুখ-দুঃখের সাথী ছিলেন মা খাদিজা। তিনি ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়িক। পাশাপাশি একজন উত্তম স্ত্রীও। রাসূল সা: যখন নব্যুয়াত লাভের পর সর্বপ্রথম মা খাদিজাতুল কোবরা সর্বপ্রথম দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। আল্লাহ তা’আলা আমাদের আদেশ করেন রাসূল সা: এর স্ত্রীদের কে মা বলে বলা সম্বোধন করার জন্য। মুসলিম মেয়েদের মা খাদিজাতুল কোবরা থেকে যথেষ্ট পরিমাণ শিক্ষা নেওয়া উচিত।

সাওদা বিনতে জামআ

Sawda Binty Jam’wa যার বাংলা অর্থ হচ্ছে খেজুর গাছের পূর্ণভূমি জাতীয় এমন কিছু। রাসূল সা: এর বিবাহের পূর্বে তার আরেকটি বিবাহ সম্পূর্ণ হয়েছিল। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত তার প্রথম স্বামী আস-সাকরানের মৃত্যু হয়। এবং তাদের একটি ছেলে সন্তানও ছিল। আবদুর রহমান। তিনি জালুলা যুদ্ধে নিহত হোন। সাওদা বিনতে জামআ একমাত্র নবীর স্ত্রী যে উম্মুল মুমিনিন মর্যাদায় ভূষিত হোন। তার প্রথম স্বামী আস সাকরানের মৃত্যুর পর রাসূল সা: তাকে বিবাহ করেন।

আয়েশা বিনতে আবু বকর

Aysha Binty Abu Bokar যার বাংলা অর্থ হলো জীবন্ত অথবা প্রাণবন্ত এমন কিছু। নবীর তৃতীয় স্ত্রী হলো আয়েশা বিনতে আবু বকর। উপরোক্ত সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বাবার নাম আসল নামের শেষে বসেছে। এখান থেকে বর্তমানে যে সকল নারীরা তাদের নামের শেষে স্বামীর নাম যোগ করে,তাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। আয়েশা রা: বাবার নাম হলেন হযরত আবু বকর রা:। তার নামের অংশটাই আয়েশা রা: নামের শেষে যোগ হয়েছে। অর্থাৎ পিতার নাম। তার পিতা হযরত আবু বকর রা: ছিলেন নবী সা: এর একজন ঘনিষ্ট এবং বিশ্বস্ত সাহাবী। মা আয়েশা রা: ইসলামে অবদান রয়েছে অনেক। তার ঐতিহাসিক অবদান অনস্বীকার্য। তিনি নবী সা: কে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করেছিলেন। তাইতো আল্লাহ তা’আলা তার মর্যাদা অনেকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে।

হাফসা বিনতে উমর

Hafsa Binty Umor যার বাংলা অর্থ হলো একত্রিত বা এক সাথে। তার নামের দ্বিতীয় অংশটি অর্থাৎ উমর, তিনি হলেন নবী সা: এর খুবই কাছের একজন সাহাবী ও খলিফা। তার সম্পূর্ণ নাম হলো হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা:। তার মেয়ে হাফসা বিনতে উমর ছিলেন নবাজির স্ত্রী। মা হাফসা বিনতে উমর রা: পূর্বে আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। যার সাথে বিয়ে হয়েছিল তার নাম ছিল হুনাইস ইবনে হুজাইফাকে। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত কিছুদিন পর তার মৃত্যু হয়। এরপর মা হাফসা বিনতে উমর রা: বিধবা হয়ে যান। তখন তিনি হাফসা বিনতে উমর রা: কে বিয়ে দেওয়ার জন্য হযরত উসমান ইবনে আফফান রা: কে প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে দেন। এরপর হযরত আবু বকর রা: কে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব দেন। তিনিও একই ভাবে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তখন বাবা ওমর রা: মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা: কে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এরপর হযরত মুহাম্মদ সা: হাফসা বিনতে উমর রা: কে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন খুবই মহৎ একজন নারী। ইসলামের জন্য তার আত্মত্যাগ দেখনীয়।

জয়নব বিনতে খুযায়মা

Zaynob Binty Khujayma যার অর্থ হলো সুগিন্ধি বা আকর্ষিত কোনো এক ধরনের ঘ্রাণ। তারও প্রথমে একটি বিয়ে হয়েছিল। উহুদ যুদ্ধে তার প্রথম স্বামীর মৃত্যুবরণ ঘটে। তিনি ছিলেন তখনকার আরব দেশের সোলাইম গোত্রের একজন মেয়ে। আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ ছিল জয়নব বিনতে খুযায়মা রা: প্রথম স্বামী। সাহাবীদের সাথে উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি। এরপর সেই পবিত্র যুদ্ধেই তিনি শহীদ হোন। আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নছিব করুক, আমিন। এরপর প্রস্তাবের মাধ্যমে নবী সা: হযরত জয়নব বিনতে খুযায়মা রা: কে বিয়ে করেন ৪০০ দিরহাম মোহরানা দিয়ে। তখন ছিল জ্বীল হজ্জ্ব মাসের প্রায় শেষ দিক। কিন্তু বিয়ের ৩ মাস পর মা হযরত জয়নব বিনতে খুযায়মা আল্লাহর ডাকে সারা দিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। ব্যাপারটি অনেক কষ্টদায়ক ছিল। রাসূল সা: তাকে জান্নাতুল বাকিতে কবর দেন।

উম্মে সালমা হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়া

Umme Salma Hind Binty Abhi Umaiya যার বাংলা অর্থ হচ্ছে সফট বা নরম হাত ও পা বিশিষ্ট মা। তাঁর আসল নাম হলো হিন্দ আল মাখজুমিয়া। উম্মে সালমা হলো দ্বিতীয় স্বামী হলেন মাহনবী হযরত মুহাম্মদ সা:। তাঁর প্রথম স্বামীর নাম হলো আবু সালামা ইবনে আল আসাদ। যিনি ছিলেন একজন সাহাবী। তিনি নবী সা: এর ইসলাম প্রচারের প্র্রথম যুগেই ইসলাম কবুল করেন। এবং শুধু তিনি নয়। তার স্ত্রী মা উম্মে সালমা হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়াও একসাথে ইসলাম প্রচারের প্রথম যুগেই ইসলাম গ্রহণ করেন। উহুদ যুদ্ধে তাঁর স্বামী সালামা ইবনে আল আসাদ অংশগ্রহণ করে এবং মারাত্নকভাবে জখম হয়। কিন্তু শেষ অবধি তিনি মৃত্যু বরণ করেন। তার মৃত্যুর সময় ওনার সন্তান ছিল মোট ৪জন।এমতোবস্থায় তিনি খুবই বিপর্যস্ত এবং অসহায় অবস্থায় পড়ে যান। এমন পরিস্থিতি থেকে তাকে রক্ষা করতে হযরত মুহাম্মদ সা: মা উম্মে সালমা হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়া রা: কে বিয়ে করেন।

রায়হানা বিনতে জায়েদ

Rayhana Binty Jayed যার বাংলা অর্থ ফুলের তোড়া অথবা এমন কিছুকেই বোঝায়। মূলত তিনি ছিলেন একজন ইহুদি গোত্রের নারী। কিন্তু যখনই উনি ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন নবী সা: মা হযরত রায়হানা বিনতে জায়েদ কে বিবাহ করেন। তিনি খুব সুন্দর ও সাবলীল ভাবে ইসলাম পালন করেছেন। তাঁর থেকে বর্তমানের আধুনিকদের অনেক শিক্ষা নেওয়ার ব্যাপার রয়েছে।

জুওয়াইরিয়া বিনতে আল হারিস

Juyairiya Binty Al Haris যার বাংলা অর্থ হলো প্রবাহিত ধারা এমন কিছু। তিনি হলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সা: এর স্ত্রী ও আমাদের মা।  তিনি ছিলেন আরবের বনু মুস্তালিক গোত্রের প্রধানের মেয়ে। বনু মুস্তালিক গোত্রের প্রধান ছিলেন আল হারিস ইবনে আবি দিয়ার। তার কণ্যাই হলো মা জুওয়াইরিয়া বিনতে আল হারিস। ৫ হিজরি সনে রাসূল সা: জুওয়াইরিয়া বিনতে আল হারিস ক বিবাহ করেন। যখন বিবাহ সংঘঠিত হয়, তখন রাসূল সা: এর বয়স ছিল ৫৮ বছর। অন্যদিকে জুওয়াইরিয়া বিনতে আল হারিস এর বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। রাসূল সা: অন্যান্য স্ত্রীদের ন্যায় তাকেও মোহরানা দিয়ে বিয়ে করেছিল।

সাফিয়া বিনতে হুইয়াই

Safia Binty Huwyai যার বাংলা অর্থ হচ্ছে ছাটাইকৃত এমন কিছু। তিনিও ছিলেন ইহুদি গোত্রের একজন মেয়ে। তার প্রথমে একটি বিয়ে হয় সাফিয়া রা: সালাম এর সাথে। পরে তাঁর সাথে তালাকপ্রাপ্ত হয়ে রাসূল সা: কে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন ইহুদি গোত্রের প্রধান হুয়াই এর কণ্যা। রাসূল সা: এর সাথে বিয়ের পর তিনি খুব ভালো ভাবে ইসলাম পালন করেন এবং ইসলাম ধর্মে তার অনেক অবদান রয়েছে।

মাইমুনা বিনতে আল হারিস

Maimuna Binty Al Harish এর বাংলা অর্থ হলো বরকত প্রাপ্তা। মা মাইমুনা বিনতে আল হারিস ছিলেন  নবীর স্ত্রীদের মধ্যে শেষ স্ত্রী। তিনি হলেন আমাদের মাতা। তাঁর প্রকৃত অথবা আসল নাম ছিল বাররাহ। কিন্তু যখন হযরত মুহাম্মদ সা: তাকে বিয়ে করে,তখন তার নাম পরিবর্তন করে রাখে মাইমুনা বিনতে আল হারিস। প্রতিটি মুসলিমের মা হলেন মাইমুনা বিনতে আল হারিস। কেননা নবীদের স্ত্রীগণ হলো মুসলমানদের জন্য মাতা।

মারিয়া আল কিবতিয়া

Maria Al Kibtia যার বাংলা অর্থ হলো বাছুরবিশিষ্ট গাভী। তিনি মারিয়া আল কিবতিয়া নামে বেশি পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন মূলত খ্রিষ্টান নারী আবার একই সাথে ক্রীতদাসও ছিলেন।মুকওকিস নামে একজন তাকে ও তাঁর বোনকে রাসূল সা: এর নিকট প্রেরণ করেন। তখন মা মারিয়া আল কিবতিয়া রা: ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সঠিকভাবে ইসলাম মান্য করা শুরু করেন। এরপর নবী সা: তাকে বিবাহ করেন। তবে রাসূল সা: তাকে ইসলাম গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত বিয়ে করেননি। যখনই ইসলাম গ্রহণ করেছে, তখনই তাকে বিয়ে করেছে।

রামহাল ( উম্মে হাবীবা) বিনতে আবু সুফিয়ান

Ramhal ( Umme Habiba ) Binty Abu Sofian এর বাংলা অর্থ হলো প্রিয় বা পছন্দের পাত্রীর মা। তিনি সবার নিকটে উম্মে হাবীবা নামে বেশি পরিচিত। তার প্রকৃত বা আসল নাম হলো রামহাল বিনতে আবু সুফিয়ান। রাসূল সা: এর সাথে বিয়ের পূর্বে তাঁর আরেকটি বিয়ে হয়। তাঁর পূর্বের স্বামীর নাম ছিল উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহেশ। কিন্তু তাঁর ছিল কপাল পোড়া। তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে। যার কারনে মা রামহাল বিনতে আবু সুফিয়ান এর সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এমতোবস্থায়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা: তাকে বিবাহ করে থাকে।

মূলত এই ছিল নবীর স্ত্রীদের নাম সমূহ। এখানে উল্লেখিত নামগুলোই হলো রাসূল সা: এর জীবন দশায় বিয়ে করা স্ত্রীদের নাম। আশা করি, এখন থেকে বিভিন্ন গ্রুপ কিংবা নানা রকম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিয়ে আর কোনো রকম প্রশ্ন হবে না।

নবীজির স্ত্রী কেন ১১ জন?

নবীজির স্ত্রী কেন ১১ জন

এই টাইপের প্রশ্নগুলো বিশেষ করে অন্য ধর্মাবলম্বীদের কাছ থেকে আসে এবং নাস্তিকদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি এসে থাকে। নবীজি কেন একাধিক বিয়ে করছে? যেখানে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে   সর্বোচ্চ ৪টি বিয়ের কথা। এখানে আমাদের বোঝতে হবে এবং সব কিছু জানতে হবে। রাসূল সা: এর সব কিছুই আমাদের জন্য সুন্নাত। আর তা আমাদের করা উচিত। কিন্তু রাসূল সা: যেখানে ৪ এর একাধিক বিয়ে করেছে সেখানে আমরা কেন ৪টি করবো ? এ ধরনের নানাবিধ নাস্তিকদের প্রশ্ন বিভিন্ন রকম ব্লগ সাইটে ঘুরপাক খায়। কিন্তু তারা কেউ রাসূল সা: এর জীবনি পড়ে দেখেনি এবং দেখতেও চায় নি।

রাসূল সা: এর একাধিক বিয়ের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এখানে একটি কথা বলে রাখা ভালো যে, নবী সা: এর ইসলাম প্রচার বন্ধ করর জন্য কাফেররা তাকে সুন্দরী সুন্দরী নারীকে বিয়ে করার অফার প্রদান করেছিল। কিন্তু নবী সা: তা প্রত্যাখ্যান করেছে। মোটামোটি জ্ঞান থাকলে এই লাইন থেকেই বোঝে ফেলা উচিত যে কেন রাসূল সা: একাধিখ বিয়ে করেছেন। কেন নবীজির স্ত্রী ১১ জন। মা খাদিজা রা: মৃত্যুর পর হযরত সওদা রা: কে বিয়ে করেন তার ৪ কণ্যাকে দেখা-শোনার জন্য। বনু মোত্তালিক গোত্রে সাবাইকে ইসলামের পথে আনার জন্যই জুহাইরিয়া রা: কে বিয়ে করেন। মা সাফিয়া রা: কে বিয়ে করে যুদ্ধের প্রবণতা কমানোর জন্য এবং শেষে ইহুদিরা সন্ধি করে।

এভাবে যদি রাসূল সা: এর সম্পূরণ জীবনি কেউ পড়ে, তাহলে সে অবশ্যই খুব সহজেই বুঝতে পারেবে যে নবীজির স্ত্রী কেন ১১ জন। তাই নাস্তিক টাইপ প্রশ্ন করার আগে অবশ্যই অন্তত সীমিত একটু জ্ঞান নিয়ে নবীর জীবনি পড়ে আসুন। আশা করি বেশ ভালো ভাবে উপকৃত হতে পারবেন। যা আপনার দুনিয়া এবং আখিরাতকে সুদৃঢ় করতে বেশ উপকার হবে।

নবীর স্ত্রীদের নাম সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন

About রবীন্দ্র

Check Also

Islamic bangla dua

Islamic bangla dua – ইসলামিক ৫টি ছোট ছোট কার্যকারী দোয়া

মহাপবিত্র ধর্ম ইসলামে আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের জন্য বেশ কিছু ইসলামিক ছোট ছোট আয়াতের দোয়া ও তাজবিহ রেখেছেন, যা দ্ধারা বান্দারা তাঁর ইহকালে যেমন ব্যাপক ভাবে উপকৃত হতে পারবে ঠিক একইভাবে আখিরাতেও সে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে সক্ষম হবে। আজকের Islamic bangle dua অথবা ইসলামিক ৫টি ছোট ছোট দোয়া নামক আর্টিকেলের মাধ্যমে এমন ৫টি ছোট আয়াতের দোয়ার সম্পর্কে জানবো, যা দৈনন্দিন জীবনে আমাদের চলার পথে প্রতি মূহর্তে মূহর্তে কাজে লাগবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.