কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম | কীভাবে খাবেন কালোজিরা

Rate this post
কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম

কার্যকারী এবং পর্যাপ্ত উপকার পেতে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী কালোজিরা যেকোনো ভাবেই আপনি খেতে পারেন তবে সঠিকভাবে খেলে তা থেকে স্বাস্থ্যগত অনেক উপকার পাওয়া সম্ভব। কালো জিরার ব্যবহার সর্বত্র এবং ইসলামে কালোজিরা খাওয়া নিয়ে প্রচুর আলোচনা রয়েছে এবং মাহনবী হযরত মুহাম্মদ ( সা: ) কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে বেশ গুরুত্ব সহকারে উম্মতদের উপদেশ দিয়েছেন এবং সবার প্রতি বলেছেন, “কালোজিরায় মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ রয়েছে” ( আদার বহুমুখী উপকারিতা সম্পর্কে জানুন এবং ছোলার উপকারিতা সম্পর্কে জানুন )

কালোজিরায় তেল, কাঁচা কালো জিরা, মধুর সাথে কালোজিরা, রসুন দিয়ে কালো জিরা ইত্যাদি ভাবে কালো জিরা খাওয়া যায়। প্রত্যেকভাবে কালো জিরা খাওয়ার উপকারিতা আলাদা আলাদা রয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো স্বাস্থ্যগত উপকার পেতে কালোজিরা খাওয়ার সঠিক নিয়ম এবং পদ্ধতিগুলো। চলুন সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক কালোজিরা খাওয়ার নিয়মগুলো-

কালোজিরা খাওয়ার নিয়মগুলো

কালোজিরা খাওয়ার নিয়মগুলো
  • কালোজিরা দুই ভাবে খাওয়া যায়। এক হলো এমনিতে কাঁচা চিবিয়ে এবং অন্যটি হলো কোনো কিছুর মাধ্যমে বা পিষিয়ে কালোজিরা খাওয়া। আবার অনেকে কালোজিরার সাথে মধু, রসুন, হলুদ, পুদিনা-পাতা, তুলসী পাতা ইত্যাদির মাধ্যমে কালোজিরা খায়। তাছাড়া এসবে রয়েছেও অনেক উপকারিতা।
  • সদ্য জম্ম শিশুর মা-র ক্ষেত্রে কালোজিরার ভর্তা খেতে পারে। এক্ষেত্রে কালো জিরাকে পিষে মরিচ ও কিছুটা লবণ দিয়ে ভর্তা বানিয়ে খাওয়া যায়। মায়েদের জন্য কালোজিরা খাওয়ার এই নিয়মটা বেশ উপকারি।
  • কালোজিরা খাওয়ার আরেকটা নিয়ম হচ্ছে কালোজিরার গুড়োর সাথে পেয়ারা পাতার রস মিক্স করে খাওয়া। এলার্জি জনিত ব্যক্তিদের জন্য কালোজিরা এবং পেয়ারা পাতার রস বেশ উপকারি। এভাবেও কালোজিরা খাওয়া যেতে হবে।
  • সঠিক নিয়মে কালোজিরার তেলের সাথে এক কাপ পুদিনার পাতার রস এবং কমলার রস মিশিয়ে কালো জিরার মিশ্রণ খাওয়া যেতে পারে। এতে করে অতিরিক্ত দুচিন্তা দূর হবে। এটাও একটা নিয়ম কালো জিরা খাওয়ার।
  • কালোজিরা আর মধু একসাথে খাওয়ার একটি নিয়ম রয়েছে। কালো জিরা মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে সর্দি-কাশি কিছুটা হলেও দূর হয়।
  • এছাড়া কালো জিরার তেল মধুর সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। কালোজিরার তেল বের করে এটি মধুর সাথে মিক্স করতে হবে। দিনে কয়েকবার এই মিশ্রণটি খেলে শরীরের জন্য খুবই ভালো।

মধু ও কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

মধু ও কালোজিরা বিভিন্নভাবেই খাওয়া যায়। কালোজিরার গুড়ো এবং মধু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। কালোজিরা চিবিয়ে আলাদা মধু দিয়েও খাওয়া যেতে পারে। এই রকম অনেকভাবে কালোজিরা মধু দিয়ে খাওয়া যায়। তবে কার্যকারীতা বৃদ্ধি করতে এই কয়েকটা নিয়ম দ্ধারাই বেশি উপকৃত হওয়া সম্ভব। এক বাটি কালোজিরা নিয়ে এগুলো ভালোভাবে পিষে দিনে কয়েকবার খাওয়া যেতে পারে। যেটুকু খাবেন, সেই নির্দিষ্ট অংশটুকুর সাথে মধু মিশিয়ে খেতে হবে। আরেকটি পদ্ধতি হলো দাঁত দিয়ে চিবিয়ে খাওয়া। এভাবে মধু ও কালো জিরা একসাথে খাওয়া যায় না। তবে আগে কালোজিরা খেয়ে পরে মধু খাওয়া যেতে পারে। এটাও কালো জিরা খাওয়ার একটি উপায়।

রসুন মধু ও কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম

রসুন মধু ও কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম

কালো জিরার তেলের সাথে রসুন ও মধু মিশিয়ে খাওয়ারও একটি নিয়ম রয়েছে। তবে এখানে আপনাকে প্রথম ইনডিকেট করতে হবে কেন রসুন দিয়ে খাবেন। মাথাব্যথা ভালো করার ক্ষেত্রে রসুন কালোজিরার সাথে খাওয়া যেতে পারে। রসুন রান্না করে মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন আবার কাঁচা অবস্থায় পিষিয়েও খেতে পারেন। তবে দুই ভাবেই এর কার্যকারীতা রয়েছে। রসুনের গুড়ার  সাথে মধু মিশিয়ে খেলে স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া সম্ভব। সালাদের সাথে রসুন মিক্স করে এবং তার সাথে মধু এবং কালোজিরা মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

সকালে খালি পেটে মধু ও কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম

মধু খাওয়ার যেমন কিছু ধারাবাহিক নিয়ম কানুন রয়েছে তেমনি কালোজিরার ক্ষেত্রেও সেইম। আবার দুটিকে এক সাথে খাওয়া যায়। আর সকালে খালি পেটে কালোজিরা সাথে মধু খাওয়ার বেশ উপকারিতা রয়েছে। প্রথমে কালোজিরাগুলোকে একটু ভেজে নিতে হবে। তারপর গুড়ো করে ফেলতে হবে। সেই গুড়োগুলোকে সকালবেলা মধুর সাথে মিশিয়ে খেয়ে নিতে হবে। যদি সম্ভব হয়, তাহলে এককাপ কুম কুম গরম দুধ দিয়ে উক্ত মিশ্রণটিকে তৈরি করে খেয়ে নিতে হবে। এতে পেটের পীড়া দূর হবে। এইক্ষেত্রে অবশ্যই একটি জিনিস মনে রাখতে হবে, পরিমিত এবং সকালে খালি পেটে খেতে হবে। মূলত এটাই হচ্ছে খালি পেটে সকালে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম।

ওজন কমাতে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম

ওজন কমাতে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম

ওজন কমাতে অনেকে ভিন্ন ভিন্নভাবে কালোজিরা খেয়ে থাকে। তবে কার্যকারী কিছু নিয়ম আছে কালোজিরা খাওয়ার। কালোজিরাকে সামান্য গরম করে গুড়ো করে ফেলুন। এবার লেবুর রস এবং মধু দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটিতে কালোজিরা যোগ করে ভালোভাবে সংক্ষণ করুন। এবার পেস্টটি খেয়ে ফেলুন। এভাবে দৈনিক কালোজিরার পেস্ট খেলে ওজন কামানো সম্ভব।

এছাড়াও আরো কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে কালোজিরা খাওয়ার। এরমধ্যে একটি হলো একটি পাত্রে এক চিমটি অথবা পরিমাণমত কালো জিরা রেখে এতে লেবুর রস দিয়ে ভিজিয়ে কয়েকদিন রোদে রেখে দিন। এরপর উক্ত কালোজিরাগুলো নিয়মিত খেয়ে যান। এতে করে দেহের অতিরক্ত ওজন হ্রাস পাবে। সরাসরি কালোজিরা খেতে পারেন। আপনি যদি সহ্য না করতে পারেন এর স্বাদ, তাহলে পানি দিয়ে গিলে ফেলুন। নিয়মিত কয়েকদিন এভাবে কালোজিরা খেলে দেহের অতিরিক্ত ওজন হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি দেহ সুস্থ্য থাকবে।

কালোজিরা খাওয়ার ইসলামিক নিয়ম

কালোজিরা খাওয়ার ইসলামিক নিয়ম

ইসলামে কালোজিরা খাওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম হাদিসে বহুলভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা: হাদিসে বলেছেন, “মৃত্যু ব্যতিত কালো জিরায় রয়েছে সকল রোগের ঔষধ” । আজকের বিজ্ঞান কালোজিরা খাওয়ার সুফল বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও ইসলামে দুধ, খেজুর খাওয়া ইত্যাদি নিয়ে নবীর হাদিসে উম্মতকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তাই ইসলামেও কালোজিরা খাওয়ার সুফল বর্ণনা করা হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কালোজিরা যে যেভাবে চায় ইচ্ছা অনুযায়ী সেভাবেই খেতে পারে।যেহেতু কালোজিরায় দ্ধারা কোনো রকম ক্ষতিকর কিছু হওয়া আশঙ্কা নেই, সুতরাং ইচ্ছা অনুযায়ী কালো জিরা খাওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, পরিমিত এবং উপরোক্ত নিয়ম অনুযায়ী খেলে আরো ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম জানতে দেখুন

About রবীন্দ্র

Check Also

তুলসি চা খাওয়ার উপকারিতা

তুলসি চা খাওয়ার উপকারিতা এবং কিভাবে তুলসি চা বানাবেন ?

তুলসি চা খাওয়ার উপকারিতা কিংবা কিভাবে তুলসি চা বানাবেন তা সম্পর্কে অধিকাংশেই জানে না। না জানাই স্বাভাবিক। তবে আমরা প্রত্যেকেই চা পান করতে পছন্দ করি এবং হালকা নাস্তা কিংবা ঘুরাপেরার মাঝ বরাবর সময়ে চা খাওয়া যেন আমাদের মধ্যে ঐতিহ্যের ন্যায় কাজ করে। তবে কেমন হয়, যদি এই ইন্টারটেইনমেন্টে চা খাওয়াটা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য হয়ে ওঠে উপকারি! এবং রক্ষা করবে আমাদের অনেক ধরনের ক্রিটিকেল রোগ-বালাই থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.