অশ্বগন্ধার বহুমুখী উপকারিতা | অশ্বগন্ধা কিভাবে খাবেন

Rate this post
অশ্বগন্ধার বহুমুখী উপকারিতা

অশ্বগন্ধা হলো মূলত চিরহরিৎ জাতীয় গুল্ম উদ্ভিদ। অশ্বগন্ধার উপকারিতা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়া, নেপাল, ভূটান, পাকিস্থান সহ দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক দেশে অশ্বগন্ধা জন্মায়। এশিয়া মহাদেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ইত্যাদি দেশে অশ্বগন্ধা সন্ধান পাওয়া যায়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই বর্তমানে অশ্বগন্ধার গাছগুলোকে পাওয়া যায়। ( বাদামের উপকারিতা এবং মধুর উপকারিতা সম্পর্কে জানুন )

আচ্ছা কারো কারো মনে প্রশ্ন আসতে পারে এই ভেষজ জাতীয় উদ্ভিদকে কেনো অশ্বগন্ধার নামে নামকরণ করা হয়েছে? এটার উত্তর হলো যেহেতু প্রাচীনকাল হতেই ঔষধিগুণের জন্য অশ্বগন্ধার ব্যবহার প্রচলিত রয়েছে, সেহেতু তারা অশ্বগন্ধাকে সিদ্ধ করে ব্যবহার করতো। আর সাধারণত অশ্বগন্ধার ঔষধি গুণের জন্য বিশেষ করে অশ্বগন্ধার পাতার ব্যবহার হয়ে থাকে। যখনই অশ্বগন্ধার পাতাকে সিদ্ধ করা হয়, তখন তার থেকে ঘোড়ার মূত্রের মতো গন্ধ বের হয়। আর মূলত এই কারণেই ভেষজ এই গুল্ম উদ্ভিদের নামকরণ করা হয়েছে অশ্বগন্ধা। ( ছোলার বহুমুখী উপকারিতা এবং জিরার উপকারিতা সম্পর্কে জানুন )

সাধারণত ভেষজ ঔষধ হিসেবে অশ্বগন্ধার উপকারিতা পেতে এর ফুল, মূল, পাতা, ফল, ডালসহ সব কিছুই ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে অশ্বগন্ধা খাওয়ারও কিছু নিয়ম-নীতি রয়েছে। অশ্বগন্ধা কিভাবে খাবেন তার একটি সংক্ষিপ্ত পার্ট এই আর্টিকেলের নিম্নে রয়েছে। ( আদার উপকারিতা সম্পর্কেও জানুন )

অশ্বগন্ধা রয়েছে নানা ধরনের উপকারিতা। কিছু সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করে ঔষধ হিসেবে এটি ব্যবহার করা যায়। তবে এগুলো জানার পূর্বে আলোচনা ও বোঝার সুবিধার্থে চলুন জানা যাক অশ্বগন্ধার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে। এতে করে এর উপকারিতার দিকগুলো বোঝতে আমাদের বেশ সুবিধা হবে।

অশ্বগন্ধার পুষ্টিগুণ

অশ্বগন্ধার পুষ্টিগুণ

অশ্বগন্ধের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ টেস্টোস্টেরণ বৃদ্ধিকারী উপাদান। এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-ডি সহ আরো অনেক প্রকার ভিটামিন, যেগুলো আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারি। ভিটামিন সহ ক্যালসিয়াম, আয়রণ, ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। শরীরের জন্য উপকারি আরো অনেক রকম পুষ্টিগুণ অক্ষুন্ন রয়েছে অশ্বগন্ধতে।

শারীরিক সুস্থ্যতার জন্য আমাদের বাংলাদেশেও অনেক মানুষ অশ্বগন্ধা ব্যবহার করে থাকে। এছাড়াও এর পুষ্টিগুণের ভিত্তিতে ভেষজ ঔষধালয়ে ঔষধ বানিয়ে অশ্বগন্ধা বিক্রি করে থাকে। নানাবিধ শারীরিক ‍উপকারিতায় ভরপুর থাকায় দিন দিন এটি সবার নিকট পরিচিত হচ্ছে পাশাপাশি সুস্থ্যতার জন্য এটির ব্যবহারও বাড়ছে।

অশ্বগন্ধার বহুমুখী উপকারিতা

অশ্বগন্ধার উপকারিতা

মানুষজন অনেক আগ থেকেই শারীরিক সুস্থ্যতার জন্য অশ্বগন্ধার বহুমুখী উপকারিতা ভোগ করছে। তবে কিছু কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে অশ্বগন্ধা বেশ উপকারি। আজকের এই পর্বে আমরা তেমনই কিছু উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো। অশ্বগন্ধার উপকারিতাগুলো হলো-

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

সাধারণভাবে যদি কোনো ডায়াবেটিস রোগী তার দেহের রক্তে থাকা অতিরিক্ত পরিমাণ শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে তুলনামূলকভাবে তার ডায়াবেটিসের পরিমাণও কম থাকে। আবার একই ভাবে যদি রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে, তাহলে ডায়াবেটিস বেড়ে যায়। অশ্বগন্ধা নিজেই একটি উন্নত মানের ডায়াবেটিস প্রতিরোধী মূলক গুল্ম। এটিকে অনেকে বলে অ্যান্টি-ডায়াবেটিস। অশ্বগন্ধা শুধু ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী নন, ডায়াবেটিস রোগীর পাশাপাশি স্বাস্থ্যবান দেহের রক্তের শর্করার পরিমাণও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ফলাফলসরূপ, মানুষের ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ডায়াবেটিস রোগীর কিছু ব্যায়াম সম্পর্কে জেনে নিন।

ত্বক ভালো রাখে

আমাদের অধিকাংশ মানুষের ত্বক হলো শুষ্ক। যা শীতকালে আমাদের প্রচন্ড ভোগায়। আবার অনেকের ত্বকে কেরাটোসিস হয়। শ্যামলা হওয়ার অন্যতম কারণ এটি। এছাড়াও নির্দিষ্ট একটি সময় পর ত্বকের মধ্যে একটি বয়স্ক চাপ পড়ে। এই রকম নানা প্রতিবান্ধকতা তৈরি হয় আমাদের ত্বকে। ত্বকের যত্নে এবং ত্বককে রাতারাতি উজ্জ্বল করতে অশ্বগন্ধা এই ক্ষেত্রে বেশ ভালোভাবে আমাদের উপকৃত করতে পারে। অশ্বগন্ধা হলো প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এটি শীতকালে আমাদের শরীরকে অত্যাধিক শুষ্ক হওয়া থেকে রোধ করে। ত্বকে টান-টান ভাবে তৈরি করে। বয়স্কভাবে দূর করার পাশাপাশি ত্বকের ক্ষতিকর অনেক অসুখের জন্য প্রতিবান্ধকতা তৈরি করে।

মস্তিষ্ককে স্বাস্থ্যবান করে

আমাদের মস্তিষ্কে পার্কিনসন এবং অ্যালজাইমারের কারণে মস্তিষ্কের স্নায়ুবিক অনেক ক্ষতি সাধন হয়ে থাকে।  যা আমাদের সম্পূর্ণ শরীরের বিরূপ প্রভাব পড়ে। এমতোবস্থায় আমাদের এই ক্ষেত্র থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য অশ্বগন্ধা বেশ ভালোভাবে উপকার করতে পারে। এটি আমাদের মস্তিষ্কের স্নায়ুবিক অনেক ক্ষতি রোধ করার পাশাপাশি মস্তিষ্ককে স্বাস্থ্যবান করে তোলে। যা শরীর তথা শরীরের ভারসাম্যের জন্য বেশ উপকারক।

হৃৎযন্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

শরীরে যখন কোলেস্টেরলের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকে, তখন হৃৎযন্ত্র স্বাভাবিক অবস্থাই দূর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়াও অনেকের হৃৎপিন্ডের পেশিগুলো দূর্বল হয়ে পড়ে, যা হৃৎপিন্ডের অন্যতম একটি অসুখ। অশ্বগন্ধা এই ক্ষেত্রে আমাদের হৃৎপিন্ডের মাংস-পেশিগুলোকে শক্তিশালী করে থাকে। একই সাথে দূর্বলপেশীগুলোকে পুনরায় সতেজ করে তোলে। আর যাদের ক্ষেত্রে শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে নেই, তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, হৃৎযন্ত্রের জন্য অশ্বগন্ধা কতটা কার্যকারী।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

রোগ প্রতিরোধের ঘাটতির কারণে আমাদের শরীরকে নানা রকম অসুখের মধ্যে পড়তে হয়। তারই প্রেক্ষিতে আমাদেরকে নানা রকম ঔষধ সেবন করতে হয়। কিন্তু কী হবে যদি আমরা একটি সামান্য গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ খেয়ে সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিজেদের মধ্যে গড়ে তোলতে পারি! অবশ্যই ব্যাপারটা বিষ্ময়কর। হ্যাঁ, অশ্বগন্ধাতে রয়েছে রোগ প্রতিরোধী উপাদান। এটি আমাদের দেহের মধ্যে রোগের আক্রমণকে প্রতিহত করে।

নিদ্রা/ঘুম গাঢ় করে

অশ্বগন্ধা খেলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ মস্তিষ্ক তথা সম্পূর্ণ শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। আর এটা প্রাকৃতিক একটা নিয়ম যে, যখন কোনো মানুষের শরীর স্থির এবং ঠান্ডা হয়ে যায়, মূহর্তেই তার ঘুম ফিল হয়। যে কারণে অনেক ডাক্তারগণ অতি অনিদ্রায় থাকা রোগীদেরকে মাঝে মাঝে অশ্বগন্ধা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ক্ষত নিরাময়ে তৎপর

প্রাচীনকাল হতেই ক্ষত সারাতে অশ্বগন্ধার ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। শরীরের কোনো স্থান কেঁটে গেলে সেই ক্ষত সহজেই নিরাময় হয় না। কিন্তু এই ক্ষেত্রে এর গুণাগুণ দ্ধারা বেশ ভালোভাবে ক্ষত সারিয়ে তোলা যায় এবং অনেকে বর্তমানে ক্ষত নিরাময়ে এটি ব্যবহার করে থাকে।তবে এটি এখনোও বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত হয় নি। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটি প্রমাণিত হওয়ার দরকার রয়েছে। তারপর সবার এটি ব্যবহার বাড়ানোর উচিত।

থাইরয়েড প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটায়

এটা কোনো রকম বৈজ্ঞানিক ভাবে এখনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি যে অশ্বগন্ধার ফলে থাইরয়েড প্রক্রিয়ার অনেকটাই উন্নতি ঘটে। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে অশ্বগন্ধা আমাদের শরীরের মধ্যে T14 এর মাত্রা প্রচন্ডভাবে বাড়ায় এবং একই সাথে হাইপোথাইরয়েডিজম বেশ অনেকটাই কমিয়ে ফেলে। যখনই হাইপোথাইরয়েডিজম হ্রাস পায়, তখনই আমাদের থাইরয়েড প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে এ বিষয়ে আরো বিস্তর গবেষণার দরকার রয়েছে। এসব ধারণামূলক সাইন থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে কোনো রকম সাজেশন দেওয়া সম্ভব নয়।

আর্থারাইটিস নিয়ন্ত্রণ করে

সাধারণত আর্থারাইটিস এর ফলে আমাদের দেহে প্রদাহ জনিত ব্যথা শুরু হয়। এমতোবস্থায় আমরা অনেক রকম ঔষধ সেবন করে থাকি। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে যথাপোযুক্ত কোনো রকম সুফল পাওয়া যায় না ঔষধের মাধ্যমে।  আর্থারাইটিস এর ফলে আমাদের দেহের অনেক অংশ ফোলে যায়। অশ্বগন্ধার সেটাও নিয়ন্ত্রণ করে অর্থারৎ দেহের ব্যথা সহ ফোলা কমিয়ে ফেলে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শাস্ত্রে এসব ব্যথা ও ফোলার কারণ হিসেবে আর্থঅরাইটিস কে দায়ী করা হয়। একই সাথে এর ঔষধ হিসেবে নিরাময়ের জন্য অশ্বগন্ধাকে সাজেস্ট করে থাকে। অশ্বগন্ধা এ ব্যথার এবং ফোলার মধ্যে একটি সমতা নিয়ে আসে।

অ্যান্টি ভেনম হিসেবে কাজ করে

অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে যে, কাউকে যদি সাপে কামড় দিয়ে থাকে, তাহলে সাথে সাথে সে জায়গায় যদি অশ্বগন্ধার প্রলেপ দেওয়া হয়, এতে করে সাপের বিষের বিস্তার রোধ হওয়ার পাশাপাশি যেটুকু সাপের বিষ শরীরে প্রবেশ করেছে তা প্রশমিত হয়ে যায়। এটা কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত নয়। তবে এটা অনেকে করে নাকি সুফল পেয়েছে। সাপের বিষ প্রশমিত হয় এবং প্রবেশকৃত বিষ আর শরীরের মধ্যে বিস্তার বা ছড়াতে পারে না। যে বিধায় সাপে কাঁটার পর অনেক আগ থেকেই অশ্বগন্ধা ব্যবহার করে আসছে।

চুলের যত্নে অশ্বগন্ধা

কিডনির সমস্যা এবং প্রতিকারের উপায় জানতে এবং সেটা আমাদের শরীরের এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য অনেকে অনেক রকম ঔষধ সহ পদ্ধতি অবলম্বণ করে থাকি। অনেকের কিডনি দূর্বল হয়ে পড়ে নানা ক্রিটেকেল কারণে। এর মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে দীর্ঘদিন পেইন কিলর সেবন সহ নানা রকম কিডনি ক্ষতি করার কার্যক্রম করা। আমাদের শরীরে যদি কোনো ভাবে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোন কমাতে পারি, তাহলে কিডনির উপর অনেকটাই চাপ কমে যাবে। অশ্বগন্ধা যেহেতু আমাদের শরীরকে ঠান্ডা করে নিদ্রা নিয়ে আসে, তখন আমাদের শরীরের স্ট্রেস হরমোন অনেক কমে যায়। আর এটা কিডনির উপর চাপ পূর্ব থেকে অনেক পরিমাণ কমিয়ে আনে। ফলাফলসরূপ আমাদের কিডনি ভালো থাকে। এটি হার্টের ব্লক দূর করার উপায় হিসেবেও বেশ কার্যকারী।

এইগুলোই ছিল মূলত অশ্বগন্ধার উপকারিতার দিক। তবে এছাড়াও আরো অনেক ক্ষেত্রে আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে অশ্বগন্ধা ব্যবহৃত হয়। বর্তমানেও এর ব্যবহার চমৎকার ভাবে বাড়ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞানে যদি এটি বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত হতো যে এর সুফলগুলো, তাহলে রাতারাতি এর ব্যবহার ‍দ্ধিগুণ হয়ে যেতো। এর অধিকাংশ উপকারিতাগুলো এখনোও বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত নয়, যে বিধায় অধিকাংশ মানুষ এখনো এর উপর ভরসা করতে নারাজ।

অশ্বগন্ধার গুড়ার উপকারিতা

অশ্বগন্ধার গুড়ার উপকারিতা

পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, ভেষজ ঔষধ হিসেবে অশ্বগন্ধা বেশ জনপ্রিয় এবং সর্বক্ষেত্রে এর ব্যবহার রয়েছে। অনেকে অনেকভাবে অশ্বগন্ধার ব্যবহার করে থাকে। যেমন কেউ এর ছাল কিংবা পাতাকে সেদ্ধ করে ব্যবহার করে আবার কেউ এর গুড়া। অশ্বগন্ধার গুড়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে যে কারণে প্রায় সবাই অশ্বগন্ধার গুড়া ব্যবহার করে থাকে। অশ্বগন্ধার গুড়ার উপকারিতা হলো-

  • পেট ফাঁপা ভালো করতে সহায়তা করে থাকে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
  • কোলেস্টেরল কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখে।
  • কিছু ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রেণে রাখে।
  • কিডনি ভালো ও সুস্থ্য রাখে।

এছাড়াও আরো অনেক প্রকার গুণ রয়েছে অশ্বগন্ধা গুড়ের। বর্তমানে দিন দিন বাজারের বিভিন্ন চিকিৎসালয়ে এর ডিমান্ড বাড়ছে। ফলে অনেক হোমিও ঔষাধালয়ে এর গুরুত্ব বাড়ছে।

হোমিওপ্যাথিক অশ্বগন্ধার উপকারিতা

হোমিওপ্যাথিক অশ্বগন্ধার উপকারিতা

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় বর্তমানে অশ্বগন্ধা খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাজারের সব হোমিও চিকিৎসালয়ে বর্তমানে অশ্বগন্ধা দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে থাকে। এমনিতে শারীরিক বিভিন্ন অসুখের জন্য এটি খুব উপকারি পাশাপাশি অপকারিতাও রয়েছে। তবে হোমিও চিকিৎসকরা বোঝে-শুনে তাদের রোগের ক্ষেত্র বোঝে এটা সাজেস্ট করে থাকে এবং ঔষধ হিসেবে দিয়ে থাকে। হোমিওপ্যাথিক অশ্বগন্ধার উপকারিতা হলো-

  • চোখের বিভিন্ন রকম অসুখ দূর করে চোখ ভালো করে।
  • পেট ব্যথা কমিয়ে ফেলে।
  • নিদ্রা দূর করে। শরীর ঠান্ডা করে ঘুম আসে।
  • মস্তিষ্ক তথা মন ভালো রাখে।
  • শরীরের রক্তের প্রবাহ ঠিক করে।
  • ডায়াবেটিসের জন্য বেশ উপকারি।

মূলত এছাড়াও আরো অনেক অসুস্থ্যতার জন্যই হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারগণ তাদের রোগীদের অশ্বগন্ধা সাজেস্ট করে থাকে। এটি হোমিওপ্যাথিকভাবে ব্যবহার করে নাকি অনেকে বেশ ভালো উপকারিতা পেয়েছে। তবে বৈজ্ঞানিক ভাবে এর উপকারিতার দিকটি এখনো সঠিকভাবে প্রমাণিত হয় নি।

অশ্বগন্ধার ক্ষতিকর দিক বা অশ্বগন্ধার অপকারিতা

অশ্বগন্ধার অপকারিতা

স্বাভাবিক নীতি অনুসারে, সব কিছুরই কিছু না কিছু অপকারিতা তথা কুফল থাকেই। তেমনি অশ্বগন্ধাও এর বাহিরে নয়। এরও রয়েছে কিছু স্পেসেপিক ক্ষতিকর দিক বা অপকারিতা। যা মানবদেহের জন্য মোটেও কাম্য নয়। চলুন জেনে নিই অশ্বগন্ধার অপকারিতাগুলো-

গ্যাস্ট্রিক/আলচার তৈরি করে

আমাদের অধিকাংশ মানুষের দেহেই পিত্তের প্রভাব বেশ ভালো ভাবেই থাকে। এতে করে তাদের দেহ প্রচন্ড উষ্ণ বা কিছুটা বেশি তাপমাত্রা থাকে। যদি ঐসব ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন অশ্বগন্ধা ব্যবহার করে,তাহলে তাদের গ্যাস্ট্রিক সহ আলাচার,ডায়রিয়া ও শেষে বমি বমি ভাব হতে পারে। তাই পিত্তের প্রভাবে থাকা ব্যক্তিরা বেশি দিন অশ্বগন্ধা ব্যবহার না করাই উত্তম।

রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়

অনেকেই রক্তে শর্করার পরিমাণ হ্রাস করতে বিভিন্ন রকম ঔষধ সেবন করে থাকে। তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রবলেম ফেস করতে হয়। কেমন সমস্যা? তাদের অধিকাংশের উপর বেড প্রভাব পড়ে। যেমন তাদের রক্তে উল্টো শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। যা একজন এরকম রোগীর জন্য মোটেও কাম্য নয়। তাই এসব রোগীদের ক্ষেত্রে একজন অভিজ্ঞ এবং রেজিস্ট্রেট করা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অশ্বগন্ধা খেতে হবে। অন্যথায় শরীরে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবণা রয়েছে

গর্ভবর্তী অবস্থায় খাদ্যভাস নিয়ে নানা রকম এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়েছে। একানে দেখা গেছে যে গর্ভবস্থায় একজন মায়ের জন্য অশ্বগন্ধা মোটেও ভালে নয়। তাদের দেহের উপর বেশ বেড ইফেক্ট পড়ে। এছাড়াও অনেক পশুপাখি সহ জীব-জন্তুর উপর এর পরীক্ষা চালানো হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে যে এর ফলে অকালে প্রসব সহ গর্ভপাতও  ঘটে। সুতরাং গর্ভবস্থায় অশ্বগন্ধাকে এড়িয়ে চলাই উত্তম।

রক্ত পাতলা করে

অশ্বগন্ধা অ্যান্টিকোঅ্যাগুলেন্ট হিসেবে কাজ করে ফলে আমাদের দেহের রক্তকে তুলনামূলক বেশি পাতলা করে ফেলে। যাদের সম্প্রতি কোনো টাইপের অপারেশন হয়েছে বা হবে, এরকম টাইপের কিছু হলে তাদের জন্য সেই মূহর্তে অশ্বগন্ধা খাওয়ার দরকার নেই। কেননা ঔ সময় এমনিতেই অনেক বেশি পরিমাণ রক্ত হালকা থাকে। যদি আবার অশ্বগন্ধা ভক্ষণ করেন, তাহলে আগের চেয়ে আরো বেশি রক্ত পাতলা হয়ে যাবে। যেটা আমাদের মানব শরীরে বিরূপ প্রভাব পড়ে।

ঘুম তৈরি করে

আমরা অনেকে ঘুমের জন্য বিভিন্ন রকম ঔষধ সেবন করে থাকি এবং যথানিয়মে ফলাফলও পাই। তবে এমন যদি কেউ থাকে যে, শরীরের প্রশান্তির জন্য ঘুম হয় না বিধায় ফার্মেসি থেকে বিভিন্ন রকম ঘুমের ঔষধ এনে খায়, তাহলে তাদের জন্য অশ্বগন্ধা বেশ অপকারক। কেননা অশ্বগন্ধা খেলে এমনিতেই শরীর কে প্রশান্ত করে ঘুম নিয়ে আসে। আবার যদি আলাদা ঘুমের ঔষধও সেবন করেন, তাহলে শরীরের খারাপ প্রভাব পড়বে।

মূলত এই কয়টাই ছিল অশ্বগন্ধার অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিক। তবে আরো কিছু ছোট ছোট অপকারিতা রয়েছে, যা আলোচনার সুবিধার্থে এখানে উঠানো হয় নি। সার্বিক দিক দিয়ে বিবেচনা করলে দেখা যায়, অশ্বগন্ধার অপকারিতার চেয়ে উপকারিতার দিক অনেক বেশি পাশাপাশি এর ব্যবহার ও গ্রহণযোগ্যতাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অশ্বগন্ধার খাওয়ার নিয়ম – অশ্বগন্ধা কিভাবে খাবেন

অশ্বগন্ধার খাওয়ার নিয়ম

সাধারণত অশ্বগন্ধা কয়েক ভাবে খাওয়া যায়। এরমধ্যে কয়েকটি উপায় হলো অশ্বগন্ধার পাউডার, গুড়ো এবং সিদ্ধ করে খাওয়া। এখানে উল্লেখিত এই ৩টি পদ্ধতিই হলো অশ্বগন্ধা খাওয়ার সঠিক এবং সংরক্ষিত উপায়। যেকোনো একটি উপায়ে খেলেই এর উপকারিতা দ্ধারা উপকৃত হওয়া যায়। অশ্বগন্ধা খাওয়ার নিয়ম-

  • যদি আপনি নিদ্রায় ভুগে থাকেন, তাহলে বাদাম এবং মধুর সাথে অশ্বগন্ধার পাউডার মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এতে করে শরীর ঠান্ডা হওয়ার পাশাপাশি নিদ্রা দূর হবে। ভালো ঘুম হবে। এটাও একটা পদ্ধতি।
  • এক কাপ চা অথবা দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
  • এক কাপ গরম পানির সাথেও মিশিয়ে অশ্বগন্ধা খাওয়া যায়।
  • আবার অশ্বগন্ধার পাউডার মলম বানিয়ে শরীরের দীর্ঘদিনের ক্ষত স্থানে লাগিয়ে দিলে ক্ষত খুব তাড়াতাড়ি সেরে যায়। রক্ত পড়াও বন্ধ হয়।
  • চিকিৎসার ক্ষেত্রে ডাক্তাররা রোগী বোঝে দুধ অথবা মধুর সাথে করে অশ্বগন্ধা খেতে বলে থাকে। আবার কাউকে শুধু পাউডারটাই খেতে বলে।

আরো প্রায় কয়েকটি নিয়ম রয়েছে অশ্বগন্ধা খাওয়ার। তবে আপাতত এখানে মাত্র কয়েকটি পয়েন্ট তুলে ধরা হয়েছে। এখানে উল্লেখিত উপায়গুলোকেই ডাক্তারগণ রোগীদের সাজেস্ট করে থাকে।

অশ্বগন্ধার উপকারিতা সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন

Table of Contents

About রবীন্দ্র

Check Also

তুলসি চা খাওয়ার উপকারিতা

তুলসি চা খাওয়ার উপকারিতা এবং কিভাবে তুলসি চা বানাবেন ?

তুলসি চা খাওয়ার উপকারিতা কিংবা কিভাবে তুলসি চা বানাবেন তা সম্পর্কে অধিকাংশেই জানে না। না জানাই স্বাভাবিক। তবে আমরা প্রত্যেকেই চা পান করতে পছন্দ করি এবং হালকা নাস্তা কিংবা ঘুরাপেরার মাঝ বরাবর সময়ে চা খাওয়া যেন আমাদের মধ্যে ঐতিহ্যের ন্যায় কাজ করে। তবে কেমন হয়, যদি এই ইন্টারটেইনমেন্টে চা খাওয়াটা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য হয়ে ওঠে উপকারি! এবং রক্ষা করবে আমাদের অনেক ধরনের ক্রিটিকেল রোগ-বালাই থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.