খতমে খাজেগান পড়ার নিয়ম এবং ফজিলত সমূহ ২০২২❤️

Rate this post
খতমে খাজেগান পড়ার নিয়ম
খতমে খাজেগান পড়ার নিয়ম

খতমে খাজেগান পড়ার নিয়ম আমাদের মধ্যে অনেক ‍মুসলিম জানতে চায়। কেননা উক্ত আমলটি ত্বরিকত পন্থী বিশেষ ওলামায়ে আহলে সুন্নাত ও আউলিয়ায়ে কেরামের অভ্যাস করা প্রচলিত একটি উত্তম আর্দশ। আর তারই ধারাবাহিকতায় খতমে খাজেগান আমলটি বর্তমানেও প্রচলিত রয়েছে। ( আওয়াবীন নামাজ পড়ার নিয়মসুন্নত নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে জানুন )

খতমে খাজেগান কি বা কাকে বলে?

 মূলত “খাজা” শব্দটি হলো ফার্সি একটি শব্দ যারা বহুবচন হলো ”খাজেগা” আর অন্যদিকে আমরা জানি খতম অর্থ কোনো কিছু শেষ করা কিংবা পূণ্য করা। এক কথায়, খতমে খাজেগান অর্থ হলো বান্দার বিশেষ কোনো মনের ভাসণা কিংবা আশা পূর্ণ করার ইচ্ছায় দোয়া করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তা’আলার জিকির করা। আর তাকেই মূলত খতমে খাজেগান বলা হয়। ( কার্যকারী কিছু দোয়া সম্পর্কে জানুন এবং একই সাথে ইসলামিক অর্থবহ কিছু নাম সম্পর্কেও জানুন )

খতমে খাজেগান কিসের জন্য পড়া হয়?

Khatme Khwajagan বা খতমে খাজেগান মূলত কিসের জন্য পড়া হয়? কিংবা কেন এই আমলটি করা হয়? প্রশ্নগুলো প্রাথমিক অবস্থায় সবার মনে আসা স্বাভাবিক। আমরা মানুষ হিসেবে প্রতিনিয়ত আমাদেরকে পাড়ি দিতে হয় নানা রকম বালা-মুছিবত এবং সুখ-দুঃখ, কঠিন রোগব্যাধি ও আর্থিক সংকট সহ ইত্যাদি পরিস্থিতির মুখামুখি হতে হয়। আর তারই কারণে আলেমগণের শিখানো এই আমলটি তথা খতমে খাজেগান আমলটি আল্লাহ তা’আলাকে খুশি করার জন্য পড়া হয়। এতে করে মহান আল্লাহ তা’আলা তাঁর অসীম করুণার মাধ্যমে আমাদেরকে এসব ক্ষণস্থায়ী অসুবিধা থেকে রক্ষা করে এবং বরকত দান করে। তবে যদি কোনো বান্দা এই ক্ষেত্রে খতমে ইউনূছ পড়ে, তবে সে একইভাবে উপকৃত হতে পারে। খতমে ইউনূস এবং খাজেগান যদি কেউ আদায় করে, তাহলে সে একই ফল উপভোগ করবে। আর এমনটাই দাবি করছেন বিশেষ আলেমগণ।

খতমে খাজেগান পড়ার সঠিক নিয়ম

খতমে খাজেগান পড়ার সঠিক নিয়ম

উপরোক্ত আলোচনা এবং তথ্যগুলো জানার পর অবশ্যই এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, কিভাবে অথবা কোন নিয়মের মাধ্যমে খতমে খাজেগান পড়া হয় ‍কিংবা এটি পড়ার সঠিক নিয়ম কি? তাহলে চলুন জানা যাক খতমে খাজেগান পড়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানা যাক।

ইস্তেগ্ফার- ১১বার
সূরা ফাতিহা- ১০০বার
দরূদ শরীফ- ১০০বার
সূরা আলম নাশরাহ- ৭০বার
সূরা ইখলাছ- ১০০বার
পুনরায় সূরা ফাতিহা- ৭বার
পুনরায় দরূদ শরীফ- ১০০বার
তারপর এই দোয়া (একশত বার): فَسَهِّلْ يَا اِلٰهِىْ كُلَّ صَعْبٍ بِحُرْ مَتِ سَيِّدِ الْاَ بْرَارِ سَهِّلْ سَهِّلْ بِفَضْلِكَ يَاعَزِيْزُ
উচ্চারণ: ফাসাহ্হিল ইয়া ইলাহি কুল্লা ছা’বিন বিহুরমাতি সায়্যেদিল আবররি সাহ্হিল- সাহ্হিল বিফাদ্বলিকা ইয়া আজীজ। অত:পর
 يَا قَاضِىَ الْحَاجَاتْ ইয়া ক্বদ্বিয়াল হাযাত- ১০০বার
 يَا كَفِىَ الْمُهِمَّاتْ ইয়া কাফিয়াল মুহিম্মাত- ১০০বার
 يَا دَافِعَ الْبَلِيَّاتْ ইয়া দাফিয়াল বালিয়্যাত- ১০০বার
 يَا مُجِيْبَ الدَّعْوَاتْ ইয়া মুযিবাদ দা’ওয়াত- ১০০বার
 يَا رَافِعَ الدَّرَجَاتْ ইয়া রাফিয়াদ্ দারযাত- ১০০বার
 يَا حَلَّالَ الْمُشْكِلَاتْ ইয়া হাল্লালাল্ মুশ্কিলাত্- ১০০বার
 يَا مُسَبِّبَ الْاَسْبَابْ ইয়া মুসাব্বিবাল আসবাব- ১০০বার
 يَا شَافِعَ الْاَمْرَاضْ ইয়া শাফিয়াল আমরাজ- ১০০বার
 يَا مُفَتِّحَ الْاَبْوَابْ ইয়া মুফাত্তিহাল্ আব্ওয়াব- ১০০বার
 رَبِّ اِنِّىْ مَغْلُوْبٌ فَانْتَصِرْ রব্বি ইন্নি মাগ্লুবুন ফানতাছির- ১০০বার
 يَا غَوْثُ اَغِثْنِىْ وَاَمْدُدْنِىْ ইয়া গউছু আগিছ্নী ওয়া আম্দুদ্নীয়া- ১০০বার
 اِنَّالِلّٰهِ وَاِنَّااِلَيْهِ رَاجِعُوْنْ ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন- ১০০বার
 لَااِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ سُبْحَانَكَ اِنِّىْ كُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِيْنْ লা-ইলাহা ইল্লা আ আংতা সুব্হানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জোয়ালিমীন- ১০০বার
 فَاسْتَجَبْنَا لَهٗ وَنَجَّيْنٰهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذٰ لِكَ نُنْجِى الْمُؤْمِنِيْنْ ফাসতাজাবনা লাহু ওয়ানাজ্জাইনাহু মিনাল গম্মি ওয়া কাজালিকা নুনজিল মু’মিনীন- ১০০বার
 يَا اَرْ حَمَ الرَّحِمِيْنْ ইয়া আরহামার রহিমিন- ১০০বার
অতঃপর ১০০বার দরূদ শরীফ পাঠ করে খতম শেষ করে খালেছ দিলে মুনাজাত করবে

উপরোক্ত আমলটিই হলো খতমে খাজেগান। দোয়া শেষে যদি কোনো মুমিন বান্দা মুনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট মনের আশা-ভাসনা ও দুঃখ –বেদনা নিয়ে সাহায্য চায়, তাহলে ইনশাল্লাহ মহান আল্লাহ তা’আলা সেই বান্দার মনের আশা পূর্ণ করবে। মূলত এই জন্যই উক্ত আমলটি মুসলমানরা করে থাকে।

খতমে খাজেগান পড়ার নিয়ম নিয়ে শেষ কথা

খতমে খাজেগান পড়ার নিয়ম নিয়ে শেষ কথা

মহান আল্লাহ তা’আলার কাছে কোনো কিছুর শেষ নেই। তাঁর অসীম কুদরত দ্ধারা আমাদেরকে যেকোনো ভাবে এবং যেকোনো সময় উপকৃত করতে পারে। শুধু মাত্র আমাদের উচিত তাঁর নিকট চাওয়া। এখন কিভাবে চাইবেন মহান আল্লাহ তা’আলার নিকট? এটা আপনি নামাজ পড়ে মুনাজাতের মাধ্যমে চাইতে পারেন কিংবা যেকোনো ইবাদতের মাধ্যমে আপনি মহান আল্লাহ তা’আলার নিকট দোয়া চাইতে পারেন। আর সর্বপরি, খতমে খাজেগান দোয়াটি পড়েও আল্লাহর নিকট রোগ বালাই, ভয়ঙ্কর ব্যাধি, দুঃখ-দুদর্শা সহ অভাব অনাটন ইত্যাদি হতে রেহাই পেয়ে আল্লাহর নিকট বরকত চাইতে পারেন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তা’আলা খতমে খাজেগান পড়ার মাধ্যমে সকল মনের আশা পূর্ণ করবে এবং সবাইকে এই আমলটি করার তৌফিক দান করুক।

খতমে খাজেগান পড়ার নিয়ম সম্পর্কে আরো জানতে

 

খতমে খাজেগান পড়ার নিয়ম
খতমে খাজেগান
খতমে খাজেগান পড়ার নিয়ম ও ফজিলত
খতমে খাজেগান এর ফজিলত
খতমে খাজেগান পড়ার ফজিলত
খতমে খাজেগান পড়ার নিয়ম আহলে হক মিডিয়া
খাজেগান খতমের দোয়া সমূহ
khatme khwajagan in bangla
খতমে খাজেগান পড়ার দোয়া
খতমে খাজেগানের দোয়া সমূহ
khatm e khawajgan in bangla
khatme khwajagan dua
খতমে

খতমে খাজেগান pdf

খতমে খাজেগানের ইতিহাস

https://youtu.be/GuOL4TJDRNg

About রবীন্দ্র

Check Also

Islamic bangla dua

Islamic bangla dua – ইসলামিক ৫টি ছোট ছোট কার্যকারী দোয়া

মহাপবিত্র ধর্ম ইসলামে আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের জন্য বেশ কিছু ইসলামিক ছোট ছোট আয়াতের দোয়া ও তাজবিহ রেখেছেন, যা দ্ধারা বান্দারা তাঁর ইহকালে যেমন ব্যাপক ভাবে উপকৃত হতে পারবে ঠিক একইভাবে আখিরাতেও সে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে সক্ষম হবে। আজকের Islamic bangle dua অথবা ইসলামিক ৫টি ছোট ছোট দোয়া নামক আর্টিকেলের মাধ্যমে এমন ৫টি ছোট আয়াতের দোয়ার সম্পর্কে জানবো, যা দৈনন্দিন জীবনে আমাদের চলার পথে প্রতি মূহর্তে মূহর্তে কাজে লাগবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.