নবীদের নামের তালিকা | আদম আ: থেকে মুহাম্মদ সা: পর্যন্ত নবীদের নাম

নবীদের নামের তালিকা

পবিত্র কোরআনে সর্বমোট ২৬ জন নবীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই ২৬ জন সহ সম্মলিতভাবে অন্য সকল নবীদের নামের তালিকা যুক্ত আজকের পোস্টটি থেকে নবীদের নাম সম্পর্কে এবং কোন নবী কোন দেশে এসেছিলেন অথবা অবতরণ করেছিলেন, সে সম্পর্কেও একটি ধারণা পাবেন। ( নবীর স্ত্রীদের নাম সম্পর্কে জানুন এবং হাসবুনাল্লাহু এর ফজিলত ও আমল সম্পর্কে জানুন )

যুগে ‍যুগে মহান আল্লাহ তা’আলা অসংখ্য নবী-রাসূল এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। কি পরিমাণ নবী-রাসূল এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তা শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তা’আলাই ভালো জানেন। যদিও এই ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন,

“ কিছু রাসূলদের (সম্বন্ধে) তোমার কাছে বর্ণনা করলাম এবং কিছু রাসূলদের কথা বর্ণনা করলাম না। “ – সূরাঃ নিসা ১৬৩

পবিত্র কোরআনের বর্ণনায় সর্বমোট ২৬ জন নবী-রাসূল এর নাম উল্রেখ আছে। তবে অধিকাংশ নামগুলোই আল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেননি। এই দুনিয়ায় কত সংখ্যক নবী পাঠিয়েছেন, তা শুধুই আল্লাহ সঠিকাভাবে জানেন। তবে যদি আমরা সামান্য একটু ধারণা নিতে চাই, তাহলে নবী সা: এর হাদীস মোবারকগুলোর প্রতি লক্ষ্য করলেই তা সম্পর্কে সম্মুখ একটা ধারণা পাওয়া সম্ভব। হাদিসে মহানবী সা: বলেছেন, এই দুনিয়াতে আল্লাহ তা’আলা অনেক নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন এবং তা প্রায় এক লক্ষ্য চল্লিশ হাজার ( ১,৪০,০০০ ) জন হবে। এই এক লক্ষ্য চল্লিশ হাজার নবী – রাসূল এর মধ্যে তিনশত তেরজন ( ৩১৩ জন ) ছিল রাসূল। আর বাকি সবাই ছিলেন নবী। তবে সঠিকভাবে শুধু আল্লাহ তা’আলাই জানেন।

মানুষ যখন আল্লাহ তা’আলার পথ হতে বিমুখে চলে যায়, আল্লাহ তা’আলা তখন তাদের জন্য বিভিন্ন নবী রাসূল পাঠিয়েছেন। প্রায় পৃথিবীতে আসা প্রত্যেকটা জাতির জন্য আল্লাহ তা’আলা নতুন নতুন নবী রাসূল প্রেরণ করেছিলেন। এই ব্যাপারে আমাদের অবগত করার জন্য আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করেছেন

” এবং আমি নিশ্চয়ই প্রত্যেক জাতির কাছে রাসূল প্রেরণ করেছি “ – সূরা নাহল ৩৬

এখন প্রশ্ন আসতে পারে নবী-রাসূল নিয়ে! নবী কারা অথবা রাসল কারা? এই বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে একটি ভালো ধারণা দেওয়া চেষ্টা করা হয়েছে নিম্নে। সুতরাং নবী-রাসূলদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পেতে নবীদের নামের তালিকা আর্টিকেলট পড়ুন এবং নবী কারা ও রাসূল কারা জানতে দয়া করে পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

নবীদের নাম

নবীদের নাম

প্রত্যেক মুসলিমের উচিত, তার জীবনকালে অন্তত একবার কোরআনে উল্লেখিত নবী-রাসূলদের নামগুলো পড়া। সেই প্রেক্ষিতেই আজকের নবীদের নামের তালিকাযুক্ত পোস্টটি। আলোচনা দীর্ঘায়িত না করে চলুন নবীদের নামের তালিকা মনোযোগ সহকারে পড়া যাক। এখানে কোরআনে উল্লেখিত ২৬জন নবী-রাসূলদের নামগুলো সহ আরো কিছু নবীদের নাম অ্যাড করা হয়েছে। চলুন জানা যাক নবীদের নামগুলো।

  • ইসমাঈল (আঃ) = Esmail ( a: )  = লকবঃ জবীহুল্লাহ/ উৎসর্গীকৃত
  • ইসহাক (আঃ) = Eshak ( a: )  = ইবরাহীম (আঃ) এর পুত্র; তাঁর নাম পবিত্র কুরআনে ১৭ বার এসেছে।
  • ইয়াকুব (আঃ) = Yakub ( a: )  = পবিত্র কুরআনে ১২ জায়গায় তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে
  • ইউসুফ (আঃ) = Yousuf ( a: )  = তার জীবনের ঘটনাকে “আহসানুল কাসাস” নামে অভিহিত করা হয়েছে।
  • আইয়ূব (আঃ) = Aiyub ( a: )  = দীর্ঘ আঠার বছর অসুস্থাবস্থায় থেকে আল্লাহর পরীক্ষায় পাশ করেন।
  • আদম (আঃ) = Adam ( a: )  = আদি পুরুষ। লকবঃ আবুল বাশার (মানবজাতির পিতা) সাফী উল্লাহ।
  • নূহ (আঃ) = Nuh ( a: )  = প্রথম রাসূল ও নবী। লকবঃ নবীউল্লাহ/আল্লাহর নবী
  • ইদরীস (আঃ) = Edris ( a: )   = জ্যোতি বিজ্ঞানের উদ্ভাবক ও শিক্ষাবিদ
  • ইলইয়াস (আঃ) = Elias ( a: )  = তিনি এখনো পৃথিবীর বুকে জীবিত আছেন।
  • ইউনূস (আঃ) = Younus ( a: )  = লকবঃ যুননুন/ মাছওয়ালা
  • আল ইয়াসা (আঃ) = Al Yasha ( a: )  = বনী ইসরাঈলের একজন নবী
  • যাকারিয়া (আঃ) = Jakaria( a: )  = হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) এর পিতা
  • ঈসা (আঃ) = Eisha ( a: )  = আলোচিত হয়েছে।
  • হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) = Hajrat Mohammed ( Sa. ) = লকবঃ রুহুল্লাহ/ আল্লাহর প্রদত্ত আত্মা। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সর্বশেষ রাসূল ও নবী, আল্লাহর রসূল। সর্বশেষ নবী।
  • উযায়ের (আঃ) = Ujayer ( a: )  = ইহুদীরা তাকে আল্লাহর পুত্র বলত।
  • যুল-কারনায়েন (আঃ) = Jul-Karnayen ( a: = বলা হয়ে থাকে তিনি আলেকজান্ডার দিগ্রেট, কিন্তু তা ঐতিহাসিক অনুমান, সঠিক নয়।
  • শীস (আঃ) = Shis ( a: )  = লকবঃ হিবাতুল্লাহ/ আল্লাহরদান
  • হউশা (আঃ) = Howsha ( a: )  = লকবঃ মূসা (আঃ) এর বিশিষ্ট সহচর।
  • শাময়ূন (আঃ) = Shamyun ( a: = দাউদ (আঃ) এর পূর্বে তিনি আবির্ভূত হন।
  • লূত (আঃ) = Luth ( a: )   = ইবরাহীম (আঃ)-এর ভ্রাতুষ্পুত্র
  • হুদ (আঃ)  = Hudh ( a: )  = পবিত্র কোরআনে তাঁর নাম ৭ বার এসেছে।
  • সালেহ (আঃ) = Saleh ( a: )  = নাকাতুল্লাহ/ আল্লাহর উট তাঁর মুজেযা
  • ইবরাহীম (আঃ) = Ebrahim ( a: ) = লবকঃ খালীলুল্লাহ/ আল্লাহর বন্ধু
  • যূল কুফল (আঃ) = Jul Kufol ( a: )  = পবিত্র কুরআনের দুই সূরায় তাঁর নাম এসেছে।
  • শোয়াইব (আঃ) = Soyaib ( a: )  = সুপ্রসিদ্ধ বক্তা ও মূসা (আঃ)-এর শ্বশুর
  • খিজির (আঃ) = Khijir ( a: )  = যার নবুয়ত সম্পর্কে মতভেদ আছে। অনেকেই তাকে নবী ও বলেন।
  • মূসা (আঃ) = Musa ( a: )  =  লকবঃ কালীম উল্লাহ/ আল্লাহর সাথে কথোপকথন  কারী
  • হারুন (আঃ) = Harun ( a: )  = মূসা (আঃ) এর ভাই ও সুবক্তা
  • দাউদ (আঃ) = Daoud ( a: )  = সুকণ্ঠের অধিকারী ছিলেন
  • সুলায়মান (আঃ) = Sulaiman ( a: )  = জ্বীন ও মানুষের বাদশা ছিলেন।
  • জারজীস (জজীস) = jarjish ( Jojish ) = মুজাহিদ ও বনী ইসরাঈলের নবী
  • খানূক (আঃ)  = Khanuk ( a: )  = বনী ইসরাঈলের নবী ছিলেন।
  • দানিয়াল (আঃ) = Daniyal ( a: = মূসা (আঃ) মৃত্যুর পর তিনি আসেন।
  • হিযক্বীল (আঃ) = Hijkil ( a: )  = পবিত্র কুরআনের একটি সূরা তাঁর নামে নামকরণ করেছেন আল্লাহ।

এখানে উল্লেখিত নামগুলো হলো আজকের পোস্টের নবী-রাসূলদের নামের তালিকা। এখানে প্রায় ৪৫+ নাম নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আশা করি নবী-রাসূলদের নামগুলো সম্পর্কে মোটামোটি ভালো একটি ধারণা পেয়েছেন।

নবীদের নামের তালিকা জানার পাশাপাশি আমাদের অন্য সকল আর্টিকেলগুলোও পড়তে পাড়েন।

নবীদের নামের তালিকা অনুযায়ী যেসকল দেশে এসেছিলেন

নবীদের নামের তালিকা অনুযায়ী যেসকল দেশে এসেছিলেন

চলুন এখন যাক, নবী অনুযায়ী কে কোন দেশে এসেছিলেন অর্থাৎ অবতরণ করেছিলেন। যুগে যুগে আল্লাহ তা’আলা এই পৃথিবীতে অসংখ্য নবী রাসূল পাঠিয়েছেন। এখানে একটা বিষয় লক্ষণীয় যে, সকল নবী-রাসূলই কিন্তু আরবে জন্মগ্রহণ করেন নি। অথবা আল্লাহ তা’আলা সকলকেই এক জায়গা বা স্থানে পাঠায়নি। বরং নবী-রাসূলদের আল্লাহ তা’আলা ভিন্ন ভিন্ন জায়গা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পাঠিয়েছেন। যেমন হযরত আদম ( আঃ ) কে আল্লাহ তা’আলা পাঠিয়েছিলেন শ্রীলংকাতে। আবার মূসা আঃ কে পাঠিয়েছেন মিশরে। এভাবে প্রতিটি নবীকে যুগে যুগে বিভিন্ন জাতিকে আল্লাহর পথে নিয়ে আসার জন্য পৃথিবীর এক এক স্থানে পাঠিয়েছেন। তাহলে চলুন জানা যাক নবীদের নামের তালিকা অনুযায়ী এক এক জন নবীকে কোনো স্থানে অবতরণ করিয়েছিলেন বা পাঠিয়েছেন।

  • হযরত আদম (আঃ)  = Hajrat Adom ( a. ) = শ্রীলংকা
  • হযরত নূহ (আঃ)  = Hajrat Nuah ( a. ) =  জর্ডান
  • হযরত শোয়াইব (আঃ)  = Hajrat Soaib ( a. ) =  সিরিয়া
  • হযরত সালেহ (আঃ)  = Hajrat Saleh ( a. ) =  লেবানন
  • হযরত ঈব্রাহীম (আঃ)  = Hajrat Ebrahim ( a. ) =  ইরাক
  • হযরত ইসমাঈল (আঃ)  = Hajrat Esmail ( a. ) =  সৌদি আরব
  • হযরত ইয়াকুব (আঃ)  = Hajrat Yakub ( a. ) =  ফিলিস্তিন
  • হযরত মূসা (আঃ)  = Hajrat Musa ( a. ) =  মিশর।
  • হযরত ইয়াহ ইয়া (আঃ)  = Hajrat Yah Yah ( a. ) =   ফিলিস্তিন
  • হযরত জাকারিয়া (আঃ)  = Hajrat Jakaria ( a. ) =  ফিলিস্তিন
  • হযরত ইসহাক (আঃ)  = Hajrat Yisyak ( a. ) =  ফিলিস্তিন
  • হযরত ইউসুফ (আঃ)  = Hajrat Yousuf ( a. ) = ফিলিস্তিন
  • হযরত লুত (আঃ)  = Hajrat Lut ( a. ) =  জর্ডান ইরাক
  • হযরত আইয়ুব (আঃ)  = Hajrat Aiyub ( a. ) =   জর্ডান
  • হযরত হুদ (আঃ)  = Hajrat Hud ( a. ) =  ইয়েমেন
  • হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) = Hajrat Mohammed ( Sa. ) =  সৌদি আরব

এখানে প্রায় ১৬+ নবী-রাসূল এর পাঠানো স্থানগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। নবীদের নামের তালিকা অনুযায়ী স্থানগুলো সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ইন্টারনেট  ও বই থেকে সম্পূর্ণ ডিটেইলসগুলো নেওয়া হয়েছে। সুতরাং, আশা করি নবীদের নামের তালিকা গুলোর পাশাপাশি নবীদের আগমণ স্থানগুলো সম্পর্কে একটি ছোট ধারণা পেয়েছেন।কাকে নবী বলা হয়?

নবী হলো তাঁরাই, যাদের উপর আল্লাহ তা’আলার কোনো শরীয়াত নাযিল হয়নি, অর্থাৎ তাঁর পূর্বে যে শরীয়া আবতীর্ণ করেছে, সে শরীয়াহ মোতাবেক দেশ এবং মানুষদের মধ্যে বাস্তবায়নের করার হুকুম দিয়েছে, তাদেরকে সাধারণত নবী বলা হয়।কাকে রাসূল বলা হয়?

রাসূল হলো তাঁরাই, যাদের উপর মহান আল্লাহ তা’আলা তাঁর নতুন শরীয়াত নাযিল করেছেন, এবং সে শরীয়াতের সকল বিধি-বিধান পৃথিবীর মানুষদের মাঝে বাস্তবায়নের জন্য হুকুম দিয়েছেন, তাদেরকে রাসূল বলে।

উপরোক্ত বিস্তর আলোচনা থেকে আশা করি সম্পূর্ণ একটি ধারণা পেয়েছেন নবীদের নামের তালিকা সম্পর্কে। এছাড়াও পাশাপাশি ধারণা পেয়েছেন, নবীদের নামের তালিকা অনুযায়ী কোন নবী কোন এরিয়াতে এসেছিলেন। অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর এক একজন নবীকে এক এক জায়গায় পাঠিয়েছেন। আর সেই স্থানগুলোর নাম এবং নবীর নাম। মূলত এটিই ছিল নবীদের নাম নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি।

নবীদের নামের তালিকা সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন

About রবীন্দ্র

Check Also

Islamic bangla dua

Islamic bangla dua – ইসলামিক ৫টি ছোট ছোট কার্যকারী দোয়া

মহাপবিত্র ধর্ম ইসলামে আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের জন্য বেশ কিছু ইসলামিক ছোট ছোট আয়াতের দোয়া ও তাজবিহ রেখেছেন, যা দ্ধারা বান্দারা তাঁর ইহকালে যেমন ব্যাপক ভাবে উপকৃত হতে পারবে ঠিক একইভাবে আখিরাতেও সে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে সক্ষম হবে। আজকের Islamic bangle dua অথবা ইসলামিক ৫টি ছোট ছোট দোয়া নামক আর্টিকেলের মাধ্যমে এমন ৫টি ছোট আয়াতের দোয়ার সম্পর্কে জানবো, যা দৈনন্দিন জীবনে আমাদের চলার পথে প্রতি মূহর্তে মূহর্তে কাজে লাগবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.