ছারপোকা তাড়ানোর উপায় | দমন করুন মাত্র ২টি উপায়ে

Rate this post
ছারপোকা তাড়ানোর উপায়

ছারপোকা তাড়ানোর উপায় খুঁজছেন? বাসা-বাড়িতে মাত্রাতিরিক্ত উপদ্রব? কীভাবে এসব ক্ষতিকর পতঙ্গ হতে মুক্তি পাওয়া যায় তার উপায় খুঁজছেন? ওয়েল, এসব প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয়ে থাকে, তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার সুবিধার্থেই লেখা। ( দাঁতের যত্ন নেওয়ার উপায় এবং ঘাড় ব্যথা দূর করার কিছু উপায় )

শান্তিময় ঘুমানোর সময়কে অতিষ্ট এবং আতঙ্কিত করার জন্য ছারপোকার উপদ্রবই যথেষ্ট। দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত সমস্ত আসবাবপত্রসহ অন্য সকল জিনেসেই ছারপোকার চলাচল, বাসস্থান, উপদ্রব লক্ষণীয়। এই জন্য আতঙ্ক হ্রাস করতে অনেকে ছারপোকার তাড়ানোর উপায় হিসেবে অনেক ঔষধ কিংবা ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বণ করে থাকে।

ছারপোকার অস্থিত্বময় একটি বিছানায় রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই হাত-পা, গলা-পিঠ চুলকাতে হয়। এটা কী শুধু শুয়ার বিচানায় সীমাবদ্ধ? মোটেও না! বিছানার পাশাপাশি ছারপোকার বাসস্থানগুলো হলো সোফা, খাটের নিচ অংশে, আলমারির ভেতর অংশে টেবিল বা চেয়ারের নিচ অংশে, কার্পেটের নিচে, টিভি বা পিসির পেছন অংশে, মেশিন জাতীয় জিনিসের ভেতর কিংবা অন্ধকারচন্ন অঞ্চলে, রেফরিজারেটরের পেছনে, ঘর বা রোমের আনাছে-কানাছে বিশেষ করে অন্ধকারচন্ন জায়গায় ছারপোকাগুলো দিনের বেলায় থাকে। কিন্তু যখনই রাত্র হয় বা সন্ধা নামে, তখনই ছারপোকারা দেয়াল কিংবা বিভিন্ন মাধ্যমে পালানোর জায়গাগুলো থেকে বের হয়ে আছে। আবার প্রায় সময় বাস কিংবা ট্রেনের সিটের নিচেও এদের দেখা মিলে। দোকানের টেবিল কিংবা চেয়ারেও এদের দেখা যায়। ( আখরোট বাদামের উপকারিতা সম্পর্কে জানুন )

ছারপোকাকে অনেকে নিশাচর প্রাণী বলে থাকে কিন্তু বাস্তবিক অর্থে এগুলো সম্পূর্ণ নিশাচর নয়। যখন একটু অন্ধকার কিংবা রাত্র হয়ে আসে তখনই এরা এদের বাসস্থান থেকে বাহিরে বের হয়ে আসে। আর তখনই এদের উপদ্রব শুরু করে। ঘুমন্ত মানুষের রক্ত শোষা, কামড়ানো, চুল কাটা , আন-কভার খাদ্যে ছেটে খাবার নষ্ট করা, যেখানে সেখানে পতঙ্গটির মল ত্যাগ ইত্যাদি করে থাকে। ছোট ছোট বাচ্চারা তো ছারপোকাকে দেখলেই ভয় পায়। ছারপোকাকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায় মেয়েরা। ছারপোকা দেখলেই এদের স্বাভাবিক হার্টভিট অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

ছারপোকার এসব ক্ষতি পোষাতে অনেকে ছারপোকাকে ঘর বা রোম থেকে বের করে দেওয়ার জন্য স্থায়ী উপায় খুঁজে। কিন্তু কার্যকারী উপায় না পাওয়ায় অনেককে ছারপোকার উপদ্রব নিয়ে মোটামোটি গুরুত্বপূর্ণ একটা সময় হতাশায় ভুগতে হয়।

ছারপোকার বংশবৃদ্ধি রোধ করার আগে আমাদের জানতে হবে ছারপোকা কিভাবে সৃষ্টি হয়, ছারপোকা চিরতরে তাড়ানোর ঘরোয়া উপায়, ছারপোকা তাড়ানোর স্প্রে, ছারাপোকা তাড়ানোর টেবলেট বা ঔষধ ইত্যাদি সম্পর্কে।

ছারপোকা তাড়ানোর কিছু উপায়

ছারপোকা তাড়ানোর কিছু উপায়

আলোচনা না বাড়িয়ে চলুন জানি কীভাবে ছারপোকার অত্যাচার বা আতঙ্ক থেকে নিজেরা রক্ষা পেতে পারি। ঘর বা রোমের অথবা ব্যাচেলরদের হোস্টেলের স্যাত-স্যাতে পরিবেশ কিংবা শুকনা স্বাভাবিক পরিবেশ  থেকে কীভাবে আমরা ছারপোকা তাড়াতে পারি তার সংক্ষিপ্ত একটি ধারণা নেওয়া যাক। দেখতে যদিও একটি নিরভ পতঙ্গ প্রাণী মনে হলেও বাস্তবে আতঙ্কের অন্য নাম হচ্ছে ছারপোকা। তাই, বাসা-বাড়ি থেকে অবশ্যই আমাদের এসব ছাড়পোকা তাড়াতে হবে। আলোচনার সুবিধার্থে ছারাপোকা তাড়ানোর উপায়কে ২ ভাগে ভাগ করা হলো-

  • ক্যামিকেল জাতীয় পদার্থের ( বিভিন্ন রকম ট্যাবলেট বা ঔষধ, স্প্রে, বিভিন্ন ধরনের অ্যালকোহল, ন্যাপথলিন এবং কেরোসিন ইত্যাদি ) মাধ্যমে ছারপোকা তাড়ানো।
  • প্রাকৃতিকভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে (সূর্যের তাপ, পুদিনা পাতা, গরম পানি এবং প্রাকৃতিক কিটনাশক ইত্যাদি ) ছারপোকা তাড়ানো।

ক্যামিকেল ব্যবহারের মাধ্যমে ছারপোকা তাড়ানো

ক্যামিকেল ব্যবহারের মাধ্যমে ছারপোকা তাড়ানো

বাজারে বিভিন্ন রকমের/টাইপের ক্যামিকেল জাতীয় ঔষধ কিংবা স্প্রে ইত্যাদি জাতীয় ছারপোকা প্রতিরোধক পাওয়া যায়। এগুলো এপ্লাই করার মাধ্যমে বাসা-বাড়ির রোম থেকে যে কেউ ইচ্ছা করলেই খুব সহজেই ছারপোকা তাড়াতে পারে। চলুন, জানা যাক কীভাবে ক্যামিকেল প্রয়োগের মাধ্যমে ছারপোকা তাড়ানো যায়।

ছারপোকা মারার ট্যাবলেট

ছারপোকা মারা ট্যাবলেটের নাম হচ্ছে Aluminium Phosphide. বাজারে যেসব দোকানে কৃষিকাজের জন্য বিভিন্ন প্রকার সার, কীটনাশক, ফসলের বীজ ইত্যাদি বিক্রি করে, সেসব দোকানে ছারপোকার ট্যাবলেট পাওয়া যাবে।

ছারপোকা মারা প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম ১০-১৫ টাকা করে। বর্তমানে বাজার এবং অর্থনীতির উপর ভিত্তি করে অনেক কিছুর দাম উঠা নামা করে। সেক্ষেত্রে ছারপোকা মারার ট্যাবলেটের দামও ব্যতিক্রম নয়।

ছারপোকা মারার ট্যাবলিটটি খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারেন। প্রতি রোমের জন্য ৮-১০ টি ট্যাবলেট ক্রয় করুণ। মেঝের উপরে অথবা চেয়ার কিংবা টেবিলে পত্রিকার কিংবা যেকোনো পেপারের উপর উক্ত ট্যাবলেটগুলো রেখে ২-৩ দিনের জন্য কোথাও চলে যান। কেননা, এই ট্যাবলেটগুলো খুব বিষাক্ত এবং দূর্গন্ধময় গ্যাস উৎপন্ন করে।

ছারপোকা তাড়ানোর স্প্রে

ছারপোকা তাড়ানোর স্প্রে হলো ল্যাভেন্ডার অয়েল স্প্রে। এটি বাজারের কসমেটিক টাইপস বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যায়। ছারপোকা মারার জন্য সবচেয়ে ভালো স্প্রে হলো এটি। ল্যাভেন্ডার অয়েল স্প্রে টি ক্রয় করার পর, ঘরের বা রোমের যে স্থানে ছারপোকার বসবাস অর্থাৎ ছারপোকা যেখানে থাকে, সেখানে বেশি করে স্প্রে করুণ। কেউ যদি এই ভাবে ২-৩ দিন স্প্রে করে, তাহলে কয়েকদিনের মধ্যে অথবা এ ২-৩ দিনের মধ্যে ছারপোকা বাসা ছেড়ে পালাবে।

ছারপোকা তাড়াতে অ্যালকোহল এর ব্যবহার

এই ক্ষেত্রে অ্যালকোহল বেশ কার্যকর। বাজারে দোকান থেকে অ্যালকোহল ক্রয় করার পর এটি স্পে বা ছিটিয়ে দিতে হবে। যেখানে ছারপোকার বসবাস, সেখানে অ্যালকোহল দিতে হবে।

ছারপোকা তাড়াতে ন্যাপথলিন

বাজার থেকে ন্যাপথলিন কিনে এনে, তা গুড়ো করে নিন। এবার যেখানে ছারপোকার বেশি উপদ্রব, সেখানে ন্যাপথলিনের গুড়োগুলো ছিটিয়ে দিন। এভাবে মাসে কয়েকবার অথবা ২-৩ বার এই কাজ টি করুণ, ছারপোকা পালাতে বাধ্য হবে।

ক্যারোসিন ব্যবহার করে ছারপোকা তাড়ানো

আপনার বাসার যেসব আসবাবপত্রে ছারপোকার চলাচল এবং বসবাস রয়েছে, সেসব জায়গায় বা আসবাবপত্রে কয়েকমাস পর পর ক্যারোসিনের প্রলেপ দিতে পারেন। এতে করে ছারপোকা আর ঐ আসবাবপত্রে আসবে না অথবা বাসা বাধবে না।

এতোক্ষণ জানলাম ক্যামিকেল জাতীয় পদার্থের মাধ্যমে ছারপোকা তাড়াবার উপায় সম্পর্কে। এখন চলুন জানা যাক প্রাকৃতিকভাবে এবং তা সম্পূর্ণ ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে ছারপোকা আমাদের বসত রোম অথবা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে তাড়াতে কিংবা মেরে ফেলতে পারি, তা জানার চেষ্টা করি।

প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ছারপোকা তাড়ানো

প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ছারপোকা তাড়ানো

বর্তমানে অনেকে বাজারের ক্যামিক্যালের উপর নির্ভর হয়ে পড়েছে ছারপোকা তাড়ানোর ক্ষেত্রে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানেই না যে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ছারপোকা তাড়ানো সম্ভভ। আর উক্ত কাজটি করার জন্যই আজকে আমরা শিখবো কীভাবে কোনো রকম ক্যামিকেল ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরের ছারপোকাগুলো তাড়ানো যায়। তো চলুন জানা যাক প্রাকৃতিক উপায়গুলো।

সূর্যের তাপে ছারা ছারপোকা তাড়ানো

বর্তমানে তার প্রয়োগ বেমি গ্রাম অঞ্চলে দেখা যায়। সূর্যের অতি উত্তাপ এবং কিরণ ছারপোকে বাসস্থা্ন ছাড়তে বাধ্য করে। বিশেষ করে যেসব আসবাবপত্র এবং জিনিসপত্র গরম পানি দ্ধারা ধৌত করা সম্ভব নয়, সেসব জিনিসগুলোকেই সূর্যের তাপে দেওয়া হয়। এতে করে ছারপোকা পালায় এবং ছারপোকার ডিমগুলোও নষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে, সূর্যের ছারপোকা তাড়ানো হলো একটি ভিন্ন এবং কার্যকারী উপায়।

পুদিনা পাতা দ্ধারা ছারপোকা তাড়ানো

পুদিনা পাতার গন্ধ ছারপোকা সহ্য করতে পারে না। হোক সেটা টাটকা অথবা শুঁকনো পুদিনাপাতা। আপনার তোষক কিংবা সোপার কভারের নিচে ‍পুদিনা পাতা রেখে কয়েকদিনের জন্য কোথাও ঘুরতে চলে যান, এবং এই সময়ে ছারপোকা আপনার ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাবে।

ছারপোকা তাড়াতে গরম পানি         

যেসব জিনিসপত্র পানি দ্ধারা ধৌত করা সম্ভব, সেসব আসবাবপত্র এবং জিনিসপত্র দ্রুত গরম পানি দ্ধারা ধৌত করে ফেলতে হবে। ফলে ঐসব জিনিসপত্রে থাকা ছারপোকা এবং সেগুলোর ডিমগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। তাই মাস অথবা কয়েকমাস পর পর চেষ্টা করুণ ঘরের জিনিসপত্র গুলোকে ধৌত করার জন্য।

ছারপোকা

উপরের দেখানো ক্যামিকেল এবং প্রাকৃতিক ঘরোয়া উভয় পদ্ধতি দুইটি খুবই কার্যকারী। তাই দেখানো সমস্ত নিয়মে ছারপোকা তাড়াবার চেষ্টা করুণ। তবে অবশ্যই মনে রাখবেন, মাসে কয়েকবার অথবা অন্তত একবার ঘরের/বাসার সমস্ত জিনিসপত্রগুলোকে সূর্যের আলোয় গরম করুন। আর এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনি আপনার ঘর থেকে ছারপোকাকে তাড়িয়ে দিতে পারবেন।

ছারপোকা তাড়ানোর উপায় সম্পর্কে জানতে দেখুন

About রবীন্দ্র

Check Also

কষ্টের এসএমএস

কষ্টের এসএমএস – অসংখ্য ইমোশনাল বা কষ্টের SMS ❤️

কষ্টের এসএমএস কি বা কাকে বলে? আমাদের মধ্যে বিশাল একটা জনসংখ্যা ইন্টারনেটে কষ্টের বা ইমোশনাল এসএমএস লিখে সার্চ করি। আর তাদেরকে কেন্দ্র করেই আজকের আমাদের এই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়লে আশা করি, প্রশ্নের উত্তরটি পেয়ে যাবেন। তবে পাঠকদের সুবিধার্থে এখানে ৫০+ এসএমএস যোগ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.